প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বিএনপি’র সংসদীয় দলের সভায় আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি’র বিদায়ী মহাসচিব ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজনৈতিক সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি বার বার আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সবার কাছে দোয়া চান। সভায় সংসদ সদস্যদের মির্জা ফখরুলকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি আসন্ন স্থানীয়
সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব না বাড়ানোর বিষয়েও সতর্ক করেন।
গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন- সংসদ নেতা তারেক রহমান। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের অবগত করেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলামের পক্ষে ভোট চান।
সভায় উপস্থিত সংসদ সদস্যদের সূত্র জানায়, চিফ হুইপের পর বক্তব্য দিতে দাঁড়ান বিএনপি’র সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্যের শুরুতেই আবেগআপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্মরণ করেন বিএনপি’র প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে। কৃতজ্ঞতা জানান দলের চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও।
বিএনপিতে যোগ দেয়ার পর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দায়িত্ব পালনকালে আমার কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। তিনি বলেন, দল আমাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও সেই সম্মান রক্ষা করবো। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবো না।
বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল সবার কাছে দোয়া চান। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় অংশ নেয়া একাধিক সংসদ সদস্য জানান, কয়েক মিনিটের বক্তব্যে কয়েক দফা আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মির্জা ফখরুল। এতে সভায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পরে বক্তব্য দেন- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আজ ঐতিহাসিক একটি দিন। অনেক মূল্য দিয়ে আমরা আজ এ জায়গায় এসেছি। এজন্য তিনি আল্লাহ্র কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের সর্বত্র জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি অপরিহার্য- এ বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে।
প্রেসিডেন্ট পদে দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর ধরে তিনি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলের দুঃসময়ে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে তিনি দলের হাল ধরেছেন, কখনো হাল ছাড়েননি, তাকে কারাবন্দিও করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সময়ে আমাকে দেশের বাইরে থাকতে হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি ভোট দেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সংসদ সদস্যের সঙ্গে এলাকায় দলের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কোনোভাবেই এ দূরত্ব সৃষ্টি হতে দেয়া যাবে না।
তারেক রহমান বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এ নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং। গত সংসদ নির্বাচনে অনেকে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাতে কেউ দল-সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে না যান, সেজন্য এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়ে তাকে জয়ী করতে হবে।
