টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সদ্য ভূমিষ্ঠ দুই কন্যাসন্তানকে রেখে পালিয়ে গেছে মারিয়া নামে এক নারী। এমন অবস্থায় শিশু দু’টির বেঁচে থাকা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় নবজাতক দুই শিশুর বাবা সাকিব দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। নবজাতক দু’টিকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে চোখের জলে বুক ভিজিয়ে শিশু দু’টির মাকে নিকট আত্মীয়-স্বজনসহ মানুষের দ্বারে দ্বারে হন্য হয়ে খুঁজছেন। হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে ঘাটাইল পৌর শহরের ধারিয়াল গ্রামে। জানা যায়, শিশু দু’টির মা অভিযুক্ত মারিয়া ঘাটাইল পৌর এলাকার ব্যবসায়ী ময়েন উদ্দিনের মেয়ে। তার স্বামী সাকিব হোসেন পৌর শহরের একই গ্রামের সোলায়মান হোসেনের ছেলে। নবজাতক দুই সন্তানের নাম রাখা হয়েছে মাহা এবং মানহা।
স্থানীয়রা জানান, আড়াই বছর আগে ১৭ বছর বয়সী সাকিব ও ১৫ বছর বয়সী মারিয়ার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা পরিবারের অজান্তে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অসম এই বাল্যবিবাহ তাদের উভয় পরিবারের সদস্যরা মেনে না নিলে একপর্যায়ে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সাকিবের পরিবার বিয়ে মেনে নিয়ে পুত্র ও পুত্রবধূকে ঘরে তুলে নেয়। তারা আরও জানান, গত ১৩ই আগস্ট ঘাটাইল হাসপাতাল মোড়ে হাজী খোরশেদ আলী মেমোরিয়াল ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে যমজ দুই কন্যা সন্তান প্রসব করেন মারিয়া। দুই সন্তানসহ মা’কে সাকিব নিজ বাড়ি ধারিয়ালে নিয়ে আসে। কিন্তু গত ১৭ই আগস্ট রাত থেকে কাউকে কিছুই না জানিয়ে নবজাতক দুই সন্তানকে ঘরে একা ফেলে বাথরুমের কথা বলে নিরুদ্দেশ হয়ে যান মারিয়া। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাচ্চা দু’টির মা ফিরে না আসায় গোটা পরিবার দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। মায়ের বুকের দুধের তাড়নায় বাচ্চা দু’টির কান্না কোনোভাবেই থামছে না। যার ফলে নবজাতক দু’টির বেঁচে থাকা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নবজাতকের বাবা সাকিব হোসেন বলেন, যমজ শিশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। বাচ্চা দু’টির জন্য অনেক সমস্যার সমাধান করা গেলেও মা’য়ের অভাব কোনোভাবেই পূরণীয় নয়। নবজাতক দু’টি মায়ের বুকের দুধ ছাড়া আর কিছুই খাচ্ছে না। কোথায় পাবো ওদের মা’কে। এ কথা বলেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন সাকিব। তিনি আরও বলেন, তার স্ত্রী সন্তানদের রেখে কোথায় চলে গেছে তা তিনি জানেন না। নবজাতক দু’টিকে বাঁচাতে মায়ের খুবই প্রয়োজন। তবে আমাদের বিয়ের বিষয়টি শ্বশুর-শাশুড়ি মেনে নেয়নি। তাদের প্ররোচনায় এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মারিয়ার বাবা ময়েন উদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, তার মেয়ে এখন কোথায় কী অবস্থায় আছে সেটি তার জানা নেই। ওই বিয়ে মেনে না নেয়ায় মেয়ে, মেয়ের জামাই এবং তাদের সন্তান বিষয়েও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পেয়েছি। শিশু দু’টির মা’কে খুঁজে বের করে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি।
