১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে করা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এনসিসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে গঠিত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হবে কি নাÑ এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ৩১শে আগস্ট দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অপর সদস্য হলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এদিন তোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী। তিনি মামলার বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থেকে তার মক্কেলকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন জানান।
শুনানিতে ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী বলেন, এটি একটি ব্যতিক্রমী মামলা। তার মক্কেল একজন ব্যবসায়ী। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০০৯ সালে মো. তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে একটি বিবিধ মামলা (মিস কেস) করা হয়। এরপর মামলাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে ট্রাইব্যুনাল পুনরায় মিস কেসটি তদন্তে পাঠান। দ্বিতীয় দফা তদন্তেও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে প্রতিবেদন দেয় তদন্ত সংস্থা। এরপর তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে দু’টি অভিযোগ এনে ২০২২ সালের ২১শে ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে প্রসিকিউশন।
শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে তারা কোনো অভিযোগের ভিত্তি খুঁজে পাননি। এরপরও আগের ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছিল এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন নির্ধারণ করেছিল। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলাটি অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ এবং এটি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গঠন করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে তিনি মামলায় কোন অবস্থান নেবেন, তা নিয়েও সন্দিহান বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান। এ সময় ট্রাইব্যুনাল প্রশ্ন তোলেন, প্রাইমা ফেসি বা প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে কীভাবে এ ধরনের মামলায় চার্জ গঠন করা হয়েছিল। আদালত মন্তব্য করেন, এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের কারও চাকরি থাকার কথা নয়।
পুনঃতদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি: তোফাজ্জল হোসেনের আরেক আইনজীবী মো. জামিল হক বলেন, মামলাটিতে একাধিকবার তদন্ত হয়েছে। তৎকালীন প্রসিকিউশনের উত্থাপিত দু’টি অভিযোগের বিষয়ে পুনঃতদন্তে অভিযুক্তদের অপরাধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার দাবি, তদন্ত প্রতিবেদনে প্রমাণ না পাওয়ার বিষয়টি তৎকালীন প্রসিকিউশন গোপন রেখেছিল। এমনকি প্রথমবার ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতেই চার্জ গঠনের আবেদন করা হয়।
আইনজীবী জানান, ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ১৬ই মে আসামির অনুপস্থিতিতে চার্জ গঠন করেন তৎকালীন ট্রাইব্যুনাল। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ২০২৫ সালের ১৬ই এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তোফাজ্জল হোসেন। পরে দুই দফা শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৯শে এপ্রিল ফেনী সদর উপজেলার ফকিরহাট বাজারে আবুল হোসেনের দোকানে সাত-আটজন সশস্ত্র রাজাকার হামলা চালান। তাদের মধ্যে তোফাজ্জল হোসেনও ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। তোফাজ্জল নিজের হাতে থাকা রাইফেল দিয়ে উত্তর ধলিয়ার এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা এবং আরেকজনকে আহত করেন।
