জমি দখল, ভুয়া মামলা ও নানা অপকর্মের অভিযোগে শাহনাজ বেগম ও তার দুলাভাই মঞ্জুর ব্যাপারি নামে দুইজনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সালিশ-বিচার অমান্য করা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধর্ষণ ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রতিবাদে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে মানববন্ধন করেছেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বাজিতনগর গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজিতনগর গ্রামের ছানাউল ইসলামের স্ত্রী শাহনাজ বেগম ও তার দুলাভাই মঞ্জুর ব্যাপারি জোট বেঁধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও জমি দখল চালিয়ে আসছেন।
তারা এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল গফুর মাস্টার, মোস্তাফিজার রহমান রকেট, রেজাউল, শাহীন এবং মৃত মোস্তানুরসহ বহু মানুষের জায়গা-জমি অবৈধভাবে দখল করেছেন। এসব বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ইউনিয়ন পরিষদ একাধিকবার সালিশি বৈঠক ডাকলেও অভিযুক্ত দুইজন সেখানে উপস্থিত হননি। উল্টো সালিশ-বিচার করার উদ্যোগে ক্ষিপ্ত হয়ে জুমারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রোস্তম আলী আকন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা ঠুকে দেন শাহনাজ। পরবর্তীতে পুলিশের তদন্তে ধর্ষণের সেই অভিযোগটি পুরোপুরি ভুয়া ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, শাহনাজ বেগম তার স্বামী ছানাউল ইসলামকে দিয়ে একের পর এক মামলা দায়ের করান। তবে আদালতে এখন পর্যন্ত তার দায়ের করা কোনো মামলার সত্যতা মেলেনি। আওয়ামী লীগের নারী সংগঠনের সক্রিয় নেত্রী হওয়ার সুযোগ নিয়ে শাহনাজ এলাকায় একচ্ছত্র দাপট দেখাতেন। পটপরিবর্তনের পরও বর্তমানে কিছু স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয় ও ইন্দনে তিনি আগের মতোই সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে যাচ্ছেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদানকালে গোলাম রাব্বানী রুম্মন, আব্দুল গফুর মাস্টার, ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমান, আমাজদ হোসেন ও আনিছুর রহমানসহ ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, স্থানীয় শাহনাজ বেগম ও মঞ্জু একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। তাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে অন্যের জমি দখল, মাদক ও জুয়ার কারবারে আশ্রয় প্রদানসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলা হয়।
এই অপতৎপরতার কারণে এলাকার ঐতিহ্য, সুনাম ও শান্তি-শৃঙ্খলা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। অবিলম্বে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ দাবি জানান তারা। অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহনাজ বেগমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তার দুলাভাই মঞ্জুর ব্যাপারি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ৪০ এর রেকর্ড অনুযায়ী এই জমিগুলোর প্রকৃত মালিক আমি। নিজের জমি বুঝে পেতেই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি এবং মামলাগুলো বর্তমানে চলমান রয়েছে।
