কক্সবাজার-৪ (উখিয়া- টেকনাফ) আসনের এমপি ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীকে নিয়ে অপপ্রচার ও মানহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত। মঙ্গলবার সকালে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আদালত এ আদেশ দেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া তিন আসামি হলেন, ডিজিটাল অগ্রযাত্রা নামের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদক মেহেদী হাসান পলাশ, টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের বাসিন্দা বিএনপি নেতা সুলতান আহামদ ও ইমান হোসাইন।
আদালতের আদেশ সূত্রে জানা যায়, মামলাটি তদন্তের জন্য নির্ধারিত থাকায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই কক্সবাজার জেলার পুলিশ পরিদর্শক আমির হোসেন তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বাদীকে সামাজিকভাবে অপমান, অপদস্থ ও হেয়প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি ব্ল্যাকমেইলিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন। এতে ১০০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ এর ২৫(২) ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
আদালত তদন্ত প্রতিবেদন ও দাখিল করা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে তা আপাতদৃষ্টিতে সঠিক প্রতীয়মান হওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে ওই ধারার অপরাধ আমলে নেন। পরে তিন আসামির বিরুদ্ধে ডব্লিউএ বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। আইনজীবীর দাবি, ওই প্রতিবেদনে ৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের নেতাদের পুনর্বাসন করে শাহজাহান চৌধুরী শতকোটি টাকা আয় করেছেন- এমন অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়। এদিকে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এমপি শাহজাহান চৌধুরীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ ইমরান।
মামলার আইনজীবী ছমিউদ্দিন বলেন, অভিযুক্তরা শাহজাহান চৌধুরীর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না পেয়ে ‘ডিজিটাল অগ্রযাত্রা’- নামের একটি পত্রিকার ফেসবুক পেজে শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। শেষমেশ সাইবার ট্রাইব্যুনাল ৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
