পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জাহাজ কাটার কার্যক্রম চালানোর দায়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একইসঙ্গে ছাড়পত্র নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ইয়ার্ডে জাহাজ কাটাসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৩ই আগস্ট পরিবেশগত ছাড়পত্র নেয়। ওই ছাড়পত্রের মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ১২ই আগস্ট পর্যন্ত। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি ছাড়পত্র নবায়ন না করে ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার কাজ চালিয়ে যায়। এর দুইদিন পর, গত ১৪ই আগস্ট ইয়ার্ডে ‘এমটি রাসি’ নামের একটি পুরনো জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে এসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ইয়ার্ডটি পরিদর্শন করে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ দল। পরিদর্শন ও ছাড়পত্র-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় অনুমোদন ছাড়াই জাহাজ কাটার কার্যক্রম চালানোর প্রমাণ পাওয়া যায়।
পরে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদের শুনানিতে ডাকা হয়। শুনানি শেষে পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ‘এনভায়রনমেন্টাল ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্ট’ পদ্ধতিতে ৫ লাখ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না করে জাহাজ কাটার কাজ চালানো বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ। নির্ধারিত জরিমানার অর্থ আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আশরাফ উদ্দিন জানান, ইয়ার্ড মালিকের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে শুনানি হয়েছে। শুনানিতে তারা আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা করাসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একাধিক তদন্ত কমিটি কাজ করছে। শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ইয়ার্ডে প্রবেশ করে তদন্ত শুরু করেছেন। তদন্তে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা জাহাজের বিভিন্ন চেম্বার ও ব্যালাস্ট ট্যাঙ্কে থাকা গ্যাসের প্রকৃতি ও মাত্রা পরীক্ষা করছেন। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে বিষাক্ত গ্যাসের নমুনাও সংগ্রহ করেছেন। প্রাথমিকভাবে জাহাজটির ব্যালাস্ট ট্যাঙ্কে বিপজ্জনক মাত্রায় হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস জমে থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে পরীক্ষাগার ও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
