কানাইঘাটের সুরইঘাট এলাকায় চোরাকারবারির গাড়ির ধাক্কায় ফারুক আহমদ নামে এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত ফারুক আহমদ কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের আগ্রীপাড়া গ্রামের মৃত মতসিন আলীর ছেলে। পেশায় তিনি একজন দিনমজুর ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে সীমান্তবর্তী সুনারতনপুঞ্জি এলাকা দিয়ে একটি টাটা পিকআপে করে ভারতীয় জিরা নিয়ে আসছিল চোরাকারবারিরা। এ সময় সুরইঘাট বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা পিকআপটি আটক করতে পেছন থেকে ধাওয়া করেন। বিজিবি’র ধাওয়া খেয়ে পিকআপচালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে সুরইঘাট বাজারের দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাজার পয়েন্টে ফারুক আহমদ ও আম্বিয়া আহমদ নামের দুই ব্যক্তিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় ফারুক আহমদের দুই পা ভেঙে যায়। পরে বাজারের লোকজনের সহায়তায় বিজিবি সদস্যরা পিকআপটি আটক করতে সক্ষম হলেও চালক পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা দ্রুত আহত দু’জনকে উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফারুক আহমদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে ঢাকায় নেয়ার পথে তিনি মারা যান। আটক পিকআপে থাকা ভারতীয় জিরার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন সীমান্তবর্তী সুনারতনপুঞ্জি গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন, বাগরা গ্রামের আনিছুল হকের ছেলে সাজনসহ আরও কয়েকজন। পলাতক চালকের নাম তুলি মিয়া।
তিনি ভাউরভাগ চতুর্থ খণ্ড গ্রামের মৃত ফরিদ আহমদের ছেলে। কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নিজাম উদ্দিন জানিয়েছেন, আহত ফারুক আহমদ ও আম্বিয়া তার ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ফারুক আহমদ সুরইঘাট বাজারে দিনমজুরের কাজ করতেন। সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে আসা পণ্যবাহী যানবাহনের বেপরোয়া গতির কারণে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। এলাকায় চোরাচালান বন্ধে বিজিবি ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। কানাইঘাট থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, আহত হওয়া লোকটি মারা গেছে। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
