চট্টগ্রাম নগরীতে অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ায় একটি ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে দিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। অপর এক ভবন মালিককে ১২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বুধবার দুপুরে নগরীর ঐতিহ্যবাহী আসকার দিঘির পাড়ে সিডিএ’র অথরাইজড অফিসার-২ তানজিব হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ভবনটির অবৈধ অংশ ভেঙে দেয়া হয়।
সিডিএ সূত্র জানায়, আসকার দিঘির পাড়ে নির্মাণাধীন ভবনটির কাজ শুরু হওয়ার পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে মালিকপক্ষকে একাধিকবার নোটিশ দেয়া হলেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়। পরে বুধবার অভিযান চালায় সিডিএ। সিডিএ সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে সিডিএ’র অথরাইজেশন-২ শাখার আওতায় প্রায় ১৫০টি অননুমোদিত ও বিধিবহির্ভূত ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৫০টি ভবনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এর আগে নগরের লালদিঘির পাড়ে একটি অনুমোদিত বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদনের বাইরে নির্মিত অংশের বিরুদ্ধেও অভিযান চালায় সিডিএ। ভবনটির আটতলা পর্যন্ত অনুমোদন থাকলেও রাস্তার জায়গা ও নির্ধারিত সেটব্যাক না রাখায় অতিরিক্ত অংশ ভেঙে দেয়া হয়। একই সঙ্গে ভবন মালিককে ১২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং নিজ উদ্যোগে অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলতে ১৫ দিনের সময় দেয়া হয়। সিডিএ’র অথরাইজড অফিসার-২ তানজিব হোসেন বলেন, আসকার দিঘির পাড়ে ভবনটি সম্পূর্ণ অননুমোদিতভাবে নির্মাণ করা হচ্ছিল। একতলার ছাদ দেয়ার সময় বিষয়টি সিডিএ’র নজরে আসে। এরপর নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে একাধিকবার নোটিশ দেয়া হলেও কাজ বন্ধ করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘পুরো ভবনটিই অবৈধ। ভবন নির্মাণের জন্য তারা সিডিএ’র কোনো অনুমোদন নেয়নি। আসকার দিঘি নগরীর একটি ঐতিহ্যবাহী এলাকা। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী এলাকাটি সংরক্ষণ করতে হবে। এখানে কোনো ধরনের ভবন নির্মাণের জন্য প্ল্যান দেয়ার সুযোগ নেই।’
তানজিব হোসেন আরও বলেন, সিডিএ’র সক্ষমতা অনুযায়ী ভবনের অবৈধ অংশ ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে জরিমানা, সিলগালা কিংবা অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি জানান, চট্টগ্রাম নগরীতে সিডিএ’র অনুমোদন ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে দেয়া হবে না। অনুমোদনহীন ও বিধিবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
