বকেয়া বেতনের দাবিতে চট্টগ্রামে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

বকেয়া বেতনের দাবিতে চট্টগ্রামে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামে বকেয়া বেতন পাওনা পরিশোধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরের আতুরার ডিপো এলাকায় ‘ইত্যাদি জিনস লিমিটেড’ কারখানার কাছের সড়কে অবস্থান নেন তারা। এতে মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। পরে পাওনা পরিশোধের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তাদের জানানো হয়েছিল, কারখানাটি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।

এ খবরের পর শ্রমিকরা চাকরি ছেড়ে দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ক্ষতিপূরণসহ প্রাপ্য পাওনা দাবি করেন। সে সময় তাদের পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দেয়া হলেও পরে মালিকপক্ষ জানায়, কারখানা বিক্রি করা হচ্ছে না। শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন পাওনা নিয়ে তাদের সমস্যা চলছে। এর আগে বেতন-ভাতার দাবিতে চার দিনের কর্মবিরতি পালন করেছিলেন তারা। ওই কর্মবিরতির সময়ের বেতন-ভাতা নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়। পাওনা পরিশোধসহ তাদের অন্যান্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বুধবার তারা কর্মবিরতিতে যান। পরে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। শাহেরা বেগম নামে এক নারী শ্রমিক বলেন, প্রায় ১৫ দিন আগে আমাদের বলা হয়েছিল কারখানা বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। পরে নোটিশও দেয়া হয়। তখন ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। এখন আবার বলা হচ্ছে, কারখানা বিক্রি হয়নি। আমরা এই কারখানায় কাজ করেছি।

আমাদের পাওনা বর্তমান মালিককেই দিতে হবে। অবরোধের কারণে মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, হাটহাজারী ও রাউজানমুখী যাত্রীদের অনেকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করেন। আশপাশের অন্যান্য পোশাক কারখানার শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীরাও যানজটে আটকা পড়েন। দুপুর দুইটার দিকে পুলিশ ও মালিকপক্ষের আশ্বাসে সড়ক ছেড়ে দেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা । শিল্প পুলিশ চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম বলেন, ইত্যাদি জিনস লিমিটেডের শ্রমিকরা কারখানার মালিকানা পরিবর্তনের কথা জানিয়ে চাকরি ছাড়ার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সুবিধা দাবি করছেন।

তবে কারখানার মালিক জানিয়েছেন, তিনি প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করছেন না। তিনি বলেন, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সড়ক অবরোধ করেন। শ্রমিকদের দাবিগুলো নিয়ে মালিকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাসের পর শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ থেকে সরে আসে। এরপর দুপুর দুইটার দিকে সড়কের যানচলাচল সচল হয়।