রাতভর ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে আবারো জলাবদ্ধতায় ডুবেছে চট্টগ্রাম নগরী। কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে পৃষ্ঠা ২০ কলাম ৪
যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা। রোববার রাত থেকে চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। সোমবার সকালেও তা অব্যাহত ছিল। এতে নগরের নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। রিয়াজউদ্দিন বাজারের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে পানি জমে যায়।
ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান বলেন, রাতে পানি বাড়তে শুরু করলে অনেকে দোকানের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় নিচতলায় থাকা অনেক পণ্য সরানো সম্ভব হয়নি। এতে কাপড়, জুতা, ব্যাগ, প্রসাধনী ও ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হয়েছে। ব্যবসায়ী সীরাত মুস্তাফা বলেন, বৃষ্টির পানি দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ায় নিচে রাখা অনেক পণ্য সরানো যায়নি। প্রতিবছরই জলাবদ্ধতার কারণে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। এবারো বড় ধরনের লোকসান হয়েছে। রিয়াজ উদ্দিন বাজার তামাকুমণ্ডি লেইন বণিক সমিতির মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এই সংকটময় মুহূর্তে বণিক সমিতি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে রয়েছে এবং থাকবে। জলাবদ্ধতা নিরসন ও ভবিষ্যতে দুর্ভোগ কমাতে এলাকার বিভিন্ন নালা ও ড্রেন পরিষ্কারের কাজ জরুরি ভিত্তিতে চলমান রয়েছে।’
রিয়াজউদ্দিন বাজার ছাড়াও কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, জামালখান, চকবাজার, কাপাসগোলা, আগ্রাবাদ, সিডিএ আবাসিক এলাকা, বাকলিয়া, রাহাত্তারপুল, ফরিদারপাড়া, উত্তর কাট্টলী ও দক্ষিণ নালাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কোথাও গোড়ালি থেকে হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমেছে।
কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মাসুদ ফারহান বলেন, ভবনের নিচতলার পার্কিংয়ে হাঁটুসমান পানি জমেছে। বাইরে সড়কে কোমরসমান পানি। এ অবস্থায় পানি ডিঙিয়ে কর্মস্থলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার কলেজশিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, প্রতিবার ভারী বৃষ্টি হলেই এলাকায় পানি জমে। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। পানি বেশি থাকায় তিনি কলেজে যেতে পারেননি। তার ছেলেকেও স্কুলে পাঠানো সম্ভব হয়নি।
দক্ষিণ নালাপাড়ার বাসিন্দা শিপ্রা দত্ত বলেন, কোমরসমান পানি পেরিয়ে তাকে অফিসে যেতে হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে রিকশাভাড়াও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে বাসা থেকে নিউমার্কেট মোড় পর্যন্ত ৩০ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া লাগলেও সোমবার তাকে ১৫০ টাকা দিতে হয়েছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে প্রায় ১৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের বড় অংশের কাজ শেষ হলেও ভারী বৃষ্টি হলেই নগরের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে কাতালগঞ্জ ও পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের জন্য জলাবদ্ধতা নিয়মিত ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হিজড়া খালের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে পানি জমে থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ তৈরি করছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা ইসমাইল ভূঁইয়া বলেন, ‘মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় সাগরে লঘু চাপের কারণে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন এ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। বৃষ্টি একদম যে শেষ হয়ে যাবে তা না। হালকা থেকে মাঝারি বা ভারী বর্ষণ, থেমে থেমে বা বিরতি দিয়ে বৃষ্টি হবে। আকাশ ভালোও থাকবে, সঙ্গে কিছু বৃষ্টিও থাকবে। সেটা আগস্ট মাস জুড়ে থাকবে। সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টিপাত ক্রমান্বয়ে কমে আসবে।’ সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, সকালে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানির চাপ ছিল। তাই কিছু কিছু এলাকায় পানি জমেছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য সিটি করপোরেশনের কর্মীরা কাজ করছেন। বৃষ্টি থামার পর প্রায় এলাকায় পানি নেমে গেছে।
