সিলেটের আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা বাবুল একাই ঘটিয়েছে সেটি মানছেন না কেউ-ই। একজন একাই তিন জনকে খুন করেছে সে যুক্তিও শক্তিশালী করা যাচ্ছে না। পরিবারও সেটি মানতে নারাজ। মামলার এজাহারে কিছু ক্লু দিয়েছে পরিবার। সবমিলিয়ে পুলিশ আলোচিত এ ঘটনার নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের একাধিক টিম মাঠে। ওয়াচ করছে ঢাকার বিশেষ টিমও। এরই মধ্যে রোববার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া বাবুলকে চারদিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। রোববার থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে বিশ্বাসযোগ্য নতুন তথ্য মিলছে না।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন- রিমান্ডে থাকা বাবুল এখনো আবেগী। আগের মতোই কথা বলছে। এটি তার নাটকীয়তা হতে পারে। তবে তাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে। ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন- গ্রেপ্তার হওয়া বাবুল নিহতদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ। নানান কাজে ডাক পড়তো তার। বাবুল এসে কাজ করে দিতো। দিনমজুর হিসেবে সে কাজ করতো। শুধু ওই বাসায়ই নয়, এলাকার আরও অনেক বাসার মালিকের সঙ্গে তার একই ধরনের সম্পর্ক রয়েছে। বাবুলকে প্রায় সময় সহযোগিতা করেন এলাকার মানুষ। জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নেয়া পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- বাবুলকে ঘিরেই কেবল মাত্র আলোচিত এ ঘটনার তদন্ত কাজ চলছে, সেটি সত্য নয়। পুলিশ পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।
প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান, এলাকার মানুষের ভাষ্য, পরিবারের সন্দেহ সবমিলিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে। ফলে বাবুলই যে তদন্তে মূল- সেটি এখনই বলা যাবে না। ১২ই আগস্ট সকালে সিলেট নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় ঘটে আলোচিত এ ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা। ওইদিন এ বাসায় খুন হন সিলেটের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আব্দুল সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও কাজের মেয়ে তাহমিনা বেগম। ঘটনার দিনই পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করে একই এলাকায় বসবাসকারী রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়াকে। বাবুল মিয়া গ্রেপ্তারের পর খুনের ঘটনা স্বীকার করে। গৃহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সূত্র ধরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে বাবুলের জবানবন্দি থেকে পুলিশ পেয়েছে। ঘটনার দু’দিন পর নিহতের মেয়ে সেলিনা সুলতানা কোতোয়ালি থানায় যে অভিযোগ দিয়েছেন সেখানে তিনি বাবুলকে আসামি করেননি।
তবে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির নাম এজাহারে উল্লেখ করেছেন। এতে করে আলোচিত এ ঘটনার নাটকীয় মোড় নেয়। সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি খান মো. মাইনুল জাকির জানিয়েছেন- এ মামলার তদন্ত সবে মাত্র শুরু। আমরা সব বিষয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছি। যা কিছুই পাওয়া যাচ্ছে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। পুলিশ একেক করে সব বিষয়ই গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এদিকে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা এবং আইনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতদের পরিবার। সোমবার সকালে মিতালী আবাসিক এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা জানানÑ নিহত আব্দুস সাত্তারের ছেলে আরিফ ইফতেখার। একই সঙ্গে তারা আব্দুস সাত্তার- সুরাইয়া বেগম দম্পতি ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনার ছবি ও সংবাদ অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক বা অন্য কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরিফ বলেন- এই মামলায় নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, একইসঙ্গে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে কেউ যেন পার পেয়ে না যায়। পুলিশের তদন্ত সন্তোষজনক না হলে মামলা সিআইডি’র কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানাবো। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- নিহত আব্দুস সাত্তারের তিন মেয়ে তাহমিনা, সেলিনা ও তারানা।
