গোলাগুলির সুযোগে পালিয়ে প্রাণে বাঁচলেন বরগুনার তিন জেলে

মুক্তিপণ দিয়েও মেলেনি মুক্তি

গোলাগুলির সুযোগে পালিয়ে প্রাণে বাঁচলেন বরগুনার তিন জেলে

ফন্ট সাইজ:

সুন্দরবনে জলদস্যুদের জিম্মিদশা থেকে অবশেষে প্রাণ নিয়ে ফিরেছেন পাথরঘাটার তিন জেলে। অপহরণের পর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ পাঠানো হলেও তাদের মুক্তি দেয়া হয়নি। পরে জলদস্যুদের দুই বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির সুযোগে কৌশলে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন তারা। শনিবার রাত ১০টার দিকে তারা পাথরঘাটায় পৌঁছান। রোববার দুপুরে ফিরে আসা জেলেরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ফিরে আসা জেলেরা হলেন- বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার রুহিতা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাজু মিয়া (২৬), আবদুল মন্নানের ছেলে মো. মাহবুব (৩০) এবং ইব্রাহিম মোল্লার ছেলে মো. রাজু মোল্লা (২৭)। ভুক্তভোগীরা জানায়, গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনের কটকা এলাকার হৌলি খাল থেকে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামের মাসুম মাঝির একটি ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে অপহরণ করে ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র সদস্যরা। অপহরণের একদিন পর আল আমিন ও আবদুর রহিম নামে দুই জেলেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণের শর্তে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে বাকি তিনজনকে জিম্মি করে রাখা হয়। জলদস্যুদের শর্ত অনুযায়ী, ট্রলার মালিক পাথরঘাটায় এসে ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে তাদের কাছে পাঠালেও তিন জেলেকে মুক্তি দেয়া হয়নি। বরং ট্রলারের ব্রিজের (খান্দল) ভেতরে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে বিভিন্ন সময় শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে জানান তারা। ফিরে আসা জেলেরা আরও বলেন, মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে দস্যুরা আমাদের মারধর করতো। একপর্যায়ে ‘ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী’ ও ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র মধ্যে গোলাগুলি শুরু হলে আমরা সুযোগ বুঝে দৌড়ে পালিয়ে যাই। পরে খাল সাঁতরে কিছু দূর যাওয়ার পর একটি তেলবাহী জাহাজের নাবিক আমাদের উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকারী জাহাজটি তাদের মোংলা বন্দর ঘাটে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে তারা নিজ উদ্যোগে পাথরঘাটায় ফিরে আসেন। জলদস্যুদের নির্যাতনের কারণে রোববার সকালে তাদের পাথরঘাটা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অপহৃত ট্রলারের মালিক মো. মাসুম মিয়া বলেন, আমার ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে নিয়ে যায় দস্যুরা। শর্ত অনুযায়ী টাকা পাঠানোর পরও তিনজনকে মুক্তি দেয়নি। পরে তারা পালিয়ে ফিরে এসেছে। বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, গত কয়েকদিন ধরে দস্যুদের তৎপরতা চরমভাবে বেড়েছে। জলদস্যুদের নির্মূলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে তিনদিন আগে পাথরঘাটা শহরের গোলচত্বরে ট্রলার মালিক, শ্রমিক, জেলে ও পাইকার সমিতির পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও পথসভা করা হয়েছে। পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দেয়া হয়েছে। বর্তমানে জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এভাবে চলতে থাকলে তারা সাগরে যাওয়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন