চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে স্থায়ীভাবে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আনতে চারটি সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। গতকাল দুপুরে জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল আল মাসুদ।
তিনি বলেন, উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার থেকে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চারটি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছিন্নমূল এলাকা থেকে আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত একটি সড়ক, আলীনগর-টেক্সটাইল হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত একটি সড়ক, আলীনগর থেকে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) সংলগ্ন ভাটিয়ারী-বালুচড়া লিংক রোড হয়ে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত আরেকটি সড়ক এবং জঙ্গল সলিমপুরের অভ্যন্তরে একটি সড়ক নির্মাণ করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম পাহাড়ি যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রশাসনিক নজরদারির সীমাবদ্ধতার কারণে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও ভূমিদস্যুদের তৎপরতা ছিল।
চলতি বছরের ১৯শে জানুয়ারি অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব-৭-এর উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। ওই ঘটনার পর গত ৯ই মার্চ অপরাধীদের আস্তানা উচ্ছেদ এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের প্রায় চার হাজার সদস্যের অংশগ্রহণে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়। পরে সেখানে যৌথ বাহিনীর স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।
গত ২৪শে মে গভীর রাতে জঙ্গল সলিমপুরে স্থাপিত একটি যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় পুলিশ ও র্যাবের পাল্টা গুলিতে হামলাকারীরা পিছু হটে। এর আগে তারা নির্মাণাধীন একটি নিরাপত্তা ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে একটি সড়ক কেটে দেয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গত ৩১শে মে জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।
