কলমাকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

এক যুগ ধরে বন্ধ সিজারিয়ান অপারেশন

ফন্ট সাইজ:

নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অজ্ঞানকারী (অ্যানেসথেসিয়া) ও গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে প্রায় এক যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে প্রসবকালীন সিজারিয়ান অপারেশন। ফলে জরুরি ও জটিল প্রসব পরিস্থিতিতে গর্ভবতী মায়েদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
জানা যায়, ৫০ শয্যার এ সরকারি হাসপাতালে সিজার অপারেশনের জন্য অপারেশন থিয়েটার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি রয়েছে। সম্প্রতি, সাতজন নতুন চিকিৎসক যোগদান করায় বর্তমানে মোট চিকিৎসক সংখ্যা ২১ জন। তবে এর মধ্যে পাঁচজন বিভিন্ন স্থানে ডেপুটেশনে রয়েছেন। ৩০ জন নার্সের মধ্যে দু’জন ডেপুটেশনে আছেন। দীর্ঘদিন ধরে অজ্ঞানকারী ও গাইনি- এই দুই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। কখনো অজ্ঞানকারী থাকলেও গাইনি বিশেষজ্ঞ থাকেন না, আবার গাইনি থাকলেও অজ্ঞানকারী চিকিৎসক থাকেন না। দুই বিশেষজ্ঞ একসঙ্গে পদায়ন না হওয়ায় প্রায় এক যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান অপারেশন। অথচ এক সময় এ হাসপাতালে নিয়মিত সিজার অপারেশন হতো। স্থানীয়দের অভিযোগ, কলমাকান্দা উপজেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জ জেলার কিছু অংশের গরিব ও অসচ্ছল গর্ভবতী নারীরা চিকিৎসা নিতে এসে বিপাকে পড়ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে গ্রাম্য ধাত্রী, নার্স বা আয়াদের সহায়তায় প্রসব করাচ্ছেন। আর যাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে, তারা নেত্রকোণা ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে সিজার করাচ্ছেন। উপজেলার বিশরপাশা গ্রামের বাসিন্দা আলাল মিয়া জানান, সম্প্রতি প্রসবকালীন জটিলতায় তিনি তার স্ত্রীকে এ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কিন্তু সিজারের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে নেত্রকোণার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়। যাতায়াতসহ মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার টাকা। মন্তলা গ্রামের বাসিন্দা একরাম হোসেন বলেন, বেসরকারি ক্লিনিকে একটি সিজারিয়ান অপারেশনে কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়, যা অনেক পরিবারের পক্ষে বহন করা কঠিন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আল-মামুন জানান, প্রয়োজনীয় দুই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চেয়ে নিয়মিতভাবে নেত্রকোণার সিভিল সার্জনের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। সম্প্রতি বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কেও অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত এর সমাধান হবে। এ বিষয়ে নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, গত ২০শে ফেব্রুয়ারি কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন দপ্তরের লোকবল সংকটের কথাও তুলে ধরা হয়। হাসপাতালের জন্য অজ্ঞানকারী ও গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্রুত পদায়নের মাধ্যমে সিজারিয়ান অপারেশন চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন