জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: জেল পালানো ১৮২ বন্দীর নথি খুঁজে পাচ্ছে না কারাগার

সহযোগীদের খবর

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: জেল পালানো ১৮২ বন্দীর নথি খুঁজে পাচ্ছে না কারাগার

ফন্ট সাইজ:

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: জেল পালানো ১৮২ বন্দীর নথি খুঁজে পাচ্ছে না কারাগার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের কয়েকটি কারাগার ভেঙে পালিয়ে যাওয়া অন্তত ৫১৯ জন বন্দীকে দুই বছর পরও গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের মধ্যে ১৮২ জনের পরিচয়ই শনাক্ত করা যাচ্ছে না। নরসিংদী ও শেরপুর কারাগার থেকে পলাতক এই বন্দীদের মামলাসহ অন্যান্য কোনো তথ্য নেই কারা অধিদপ্তরের নথি কিংবা অনলাইন ব্যবস্থায়। ফলে তারা প্রকাশ্যে ঘুরলেও, স্বাভাবিক জীবন যাপন করলেও পলাতক হিসেবে শনাক্ত করার উপায় নেই।

কারা অধিদপ্তরের সূত্র বলছে, পলাতক এই ১৮২ বন্দীর বিষয়ে অনলাইন ব্যবস্থা বা অফলাইন নথি পাওয়া যায়নি। তারা কারা, কোন মামলায় কারাগারে ছিল, সাজাপ্রাপ্ত না বিচারাধীন মামলার আসামি, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। শনাক্তহীন এসব বন্দীর দেড় শতাধিক নরসিংদী কারাগারের।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আদালতের নথি ধরে ধরে খোঁজ করলে কারও কারও পরিচয় বের করা সম্ভব হতে পারে। তবে বিপুলসংখ্যক মামলা ও নথিপত্র ঘেঁটে তা বের করা অত্যন্ত কঠিন।

জানতে চাইলে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, পলাতক ছয় শতাধিক কয়েদিকে এখনো কারাগারে ফেরানো যায়নি। তাদের কেউ কেউ হয়তো বিদেশেও পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। দেশে থাকা পলাতক বন্দীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে ১৮২ জনের বিষয়ে কোনো তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি তাদের পরিচয়ও সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।

কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ও পরে দেশের কয়েকটি কারাগারে বন্দীদের মধ্যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। পাঁচটি কারাগারে হামলা ও বিদ্রোহের ঘটনায় ২ হাজার ২৪০ জন বন্দী পালিয়ে যায়। এ সময় কারাগার থেকে ৯৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুলসংখ্যক গুলি লুট হয়। জেল পলাতক বন্দীদের মধ্যে জঙ্গি, মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত, যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির পাশাপাশি বিচারাধীন মামলার আসামিরাও ছিল।

কারা সূত্র বলছে, কারাগার থেকে পালানোর সময় ১৬ জন বন্দী নিহত হয়। তাদের মধ্যে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে ছয়জন, জামালপুর কারাগারে সাতজন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দুজন এবং চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের একজন রয়েছে। এসব ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ ছয়টি মামলা করে।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জেল পলাতক বন্দীদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায়। পাশাপাশি শুরু হয় পলাতক বন্দীদের গ্রেপ্তারে অভিযান। তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে পলাতক বন্দীদের তালিকা দেওয়া হয়।

কারা অধিদপ্তরের পদস্থ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আত্মসমর্পণ ও বিভিন্ন অভিযানে গ্রেপ্তারের পরও ৫১৯ জন বন্দীকে এখনো পাওয়া যায়নি। কারাগারে থাকা তাদের ঠিকানায় গিয়ে পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের কেউ কেউ দেশ ছেড়ে থাকতে পারে। তবে পরিচয় শনাক্ত না হওয়া ১৮২ বন্দীর ক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই হাজারো মানুষ ফটক ভেঙে নরসিংদী জেলা কারাগারে ঢুকে পড়ে। তারা কারাগারের সেল খুলে দেয় এবং বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় ওই কারাগার থেকে ৯ জন জঙ্গিসহ ৮২৬ বন্দী পালিয়ে যায়। হামলায় কারাগারের অফিসের অনলাইন ব্যবস্থাও ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে পলাতক বন্দীদের বিস্তারিত তথ্যের একটি বড় অংশ হারিয়ে যায়। পলাতক বন্দীদের মধ্যে দেড় শতাধিক জনের বিষয়ে কারাগারে কোনো নথিই পাওয়া যায়নি। শেরপুর কারাগারের বন্দীদের তথ্য হারানোর পর শনাক্ত করতে না পারা পলাতক বন্দীর সংখ্যা বেড়ে ১৮২ জনে দাঁড়ায়।

কারা অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, কারাগারে যাদের নথিপত্র নেই, তাদের শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে থানায় তাদের তথ্য থাকার কথা থাকলেও হামলা ও অগ্নিসংযোগে সেসব স্থানের অনেক নথিও নষ্ট হয়েছে। তাই এই ১৮২ জনের পরিচয় শনাক্ত করতে একপ্রকার বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে তাদের।

হামলার সময় নরসিংদী ও শেরপুর কারাগার থেকে ৯৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রায় ১০ হাজার গুলি লুট হয়। এর মধ্যে ছিল ৩৩টি চায়নিজ রাইফেল, বিডিএইডের ৩৮টি অস্ত্র ও ২৩টি শটগান। এগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬৬টি অস্ত্র ও প্রায় ১ হাজার ৮০০টি গুলি উদ্ধার হয়েছে। বাকি ২৮টি অস্ত্র ও প্রায় সাড়ে ৭ হাজার গুলির সন্ধান মেলেনি।

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, কারাগার থেকে পালানো বন্দীরা দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির বাইরে থাকা সবার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। যদি পলাতক বন্দীদের পরিচয়ই শনাক্ত করা না গেলে তা অবশ্যই বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়। যেকোনো মূল্যে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

প্রথম আলো

‘বিএনপি কি সরকারে মিশে যাচ্ছে’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা, ঢাকায় এলেই স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) বাসায় একবার ঢুঁ মারেন মো. বাহরুল আলম। ব্যবসা, চিকিৎসা কিংবা ব্যক্তিগত কাজ—যে কারণেই রাজধানীতে আসুন, এমপির সঙ্গে দেখা করা তাঁর অন্যতম কাজ। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের এই চেয়ারম্যান গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিএনপির সমর্থনে জয়ী হয়েছিলেন। এবারও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান তিনি। তাই নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করাও তাঁর রাজনৈতিক তৎপরতার বড় অংশ।

বাহরুল আলম গত শনিবার রাতে নিঃসংকোচে প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচন করতে হলে স্থানীয় সংসদ সদস্য (নোয়াখালী-৩) মো. বরকতউল্লা বুলুর সমর্থন লাগবে। ‘সে জন্য তিনি (এমপি) এলাকায় এলে দেখা করি, আমি ঢাকায় গেলে তাঁর বাসায় যাই।’

শুধু বাহরুল আলম নন, বিএনপির জেলা-উপজেলা পর্যায়ের অনেক নেতার বর্তমান রাজনৈতিক ব্যস্ততার চিত্রও এমন। ঢাকায় এসে এমপি-মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করা, নিজের অবস্থান জানান দেওয়া এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন তাঁরা। কেউ কেউ ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ খুঁজছেন, সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ঘুরছেন বা সরকারি কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন।

ফলে প্রায় ২০ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকেও মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা দলটির নেতা-কর্মীদের একটি অংশ সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে ক্ষমতার কেন্দ্র ঘিরে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিএনপির সামনে তাই এখন বড় সাংগঠনিক প্রশ্ন—

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর বিএনপির সামনে দুটি সমান্তরাল দায়িত্ব ছিল—রাষ্ট্র পরিচালনা এবং দীর্ঘদিনের সংগঠনকে সক্রিয় রাখা। ছয় মাস পূর্তির সময় দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যস্ততায় দলীয় রাজনীতি অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে। দলের নেতারাই স্বীকার করছেন, এ সময়ে বিএনপির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচি ছিল সীমিত। দল সরকারকে সহযোগিতা করবে, নাকি ধীরে ধীরে সরকারের ছায়ায় আড়াল হয়ে যাবে?

সরকারের ছায়ায় দল

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর বিএনপির সামনে দুটি সমান্তরাল দায়িত্ব ছিল—রাষ্ট্র পরিচালনা এবং দীর্ঘদিনের সংগঠনকে সক্রিয় রাখা। ছয় মাস পূর্তির সময় দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যস্ততায় দলীয় রাজনীতি অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে। দলের নেতারাই স্বীকার করছেন, এ সময়ে বিএনপির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচি ছিল সীমিত। দিবসভিত্তিক কর্মসূচির বাইরে মাঠে দলটির তৎপরতা খুব একটা দেখা যায়নি; বরং বিরোধী দলগুলোই সংসদের ভেতরে-বাইরে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছে।

এর কিছু বাস্তব কারণও আছে। বিএনপির মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একটি বড় অংশ এখন সংসদ সদস্য, অনেকে মন্ত্রী। জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্বেও আছেন দলের নেতারা। ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ফলে মাঠের নেতৃত্বের একটি বড় অংশ এখন সরকারি দায়িত্বে যুক্ত। আর যাঁরা কোনো পদ পাননি, তাঁদের অনেকের নজর পরবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার দিকে। এ বছরের মধ্যেই সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা জানিয়েছে সরকার। তাই তৃণমূলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতাও শুরু হয়েছে। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে কি না, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—কে দলের সমর্থন পাবেন। এ অবস্থায় মাঠের রাজনীতির একটি অংশের কাছে এমপি-মন্ত্রীরা হয়ে উঠেছেন রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার প্রধান কেন্দ্র।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দল যখন সরকারে যায়, তখন দল সরকারের কার্যক্রমে সহযোগিতা করে। তার মানে এই নয় যে দল সরকারে ঢুকে গেছে। তবে সরকার গঠনের পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা ঢেলে সাজাতে পারিনি, এটা সত্য। এখন আমরা অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্গঠনসহ দলের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করছি।’

বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ (প্রিন্স) সরকারে দল মিশে যাওয়ার ঝুঁকি অস্বীকার করেন না। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা নেতা, তাঁরাই তো এমপি-মন্ত্রী। আবার অনেকে স্থানীয় সরকারে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। সে কারণে সরকারের কর্মকাণ্ডগুলো বুঝে নিতে একটু সময় লেগেছে। তবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে খুব সতর্ক। তিনি যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানে বলছেন সরকারের কাজে দলের সহযোগিতা লাগবে, কিন্তু সরকারের ভেতরে দলকে ঢুকিয়ে দেওয়া যাবে না।

প্রতিশ্রুতি ও চাপ

সরকারের ভাষ্য, প্রথম ছয় মাস ছিল রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো সচল করা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রস্তুতির সময়। দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নেয়। বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারে থাকা পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, ধর্মীয় নেতাদের সম্মানীসহ কয়েকটি কর্মসূচিও শুরু হয়েছে। এপ্রিলে কৃষক কার্ডের প্রাক্-পাইলট কর্মসূচি চালু করে প্রাথমিকভাবে ২২ হাজারের বেশি কৃষকের কাছে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পৌঁছানোর কথা জানানো হয়। জুনে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে।

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলোর বক্তব্য, গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরশাসনের পতনের পর দীর্ঘদিন পরে একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। প্রশাসন স্বাভাবিক করা, অর্থনীতি সামলানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করাই ছিল সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার।

রাজনীতি ও মতপ্রকাশে স্বস্তি

সরকারের প্রথম ছয় মাসের একটি উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক দিক হলো রাজনৈতিক পরিসর তুলনামূলক উন্মুক্ত থাকা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিরোধী দল ও ভিন্নমতের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়নের অভিযোগ ছিল। গুম, খুন, হামলা ও মামলার মাধ্যমে বিরোধী রাজনীতির পরিসর সংকুচিত করে রাখার অভিযোগও ছিল তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে।

বর্তমান সরকারের ছয় মাসে বিরোধী দল ও মতের ওপর সে ধরনের রাজনৈতিক নিপীড়নের চিত্র দেখা যায়নি। বিরোধী দলগুলো সরকার, ক্ষমতাসীন দল ও এর নেতাদের সমালোচনা করছে; প্রকাশ্যে নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্যও তুলে ধরছে। সংসদের ভেতরে-বাইরে সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে গিয়ে আগের মতো দমন-পীড়নের অভিযোগও সামনে আসেনি।

গণমাধ্যমের ওপরও আগের মতো চাপ দেখা যাচ্ছে না। সংবাদপত্র সরকারের সিদ্ধান্ত ও ক্ষমতাসীনদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। নাগরিক সমাজও বিভিন্ন বিষয়ে স্বাধীনভাবে মত দিচ্ছে। সেদিক থেকে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজে তুলনামূলক স্বস্তি আছে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার প্রতিবেদন ‘টার্মিনাল প্রস্তুত, নেই এলএনজি’। খবরে বলা হয়, এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনাল এখন পুরোদমে গ্যাস সরবরাহে প্রস্তুত; কিন্তু ২৩ আগস্ট পর্যন্ত কোনো এলএনজিবাহী কার্গোই নেই। ফলে আরও অন্তত এক সপ্তাহ সারা দেশে ভয়াবহ গ্যাস সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে রাজনৈতিক তদবিরে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ৬টি কার্গো আমদানির ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আজ এর একটি আসার কথা থাকলেও তা আসছে না। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে সংকট কাটাতে তড়িঘড়ি করে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে ৫টি এলএনজি কার্গো কেনার জরুরি দরপত্র আহ্বান করেছে সরকার। এ নিয়ে আজ সন্ধ্যায় জরুরি ভিত্তিতে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির জুম মিটিং ডাকা হয়েছে।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান যুগান্তরকে বলেন, সামনে সংকট আছে। তবে সেই সংকট কাটাতে সরকার সব চেষ্টা করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তদবিরের ওই কার্গোগুলো সময়মতো আসবে না জেনে স্পট মার্কেট থেকে ১৭ ও ২৪ আগস্টের জন্য ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম সিঙ্গাপুর থেকে কার্গো কেনা হয়েছিল। সেগুলো নিয়ে ৬ আগস্ট ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই কমিটি এই প্রস্তাব অনুমোদন না করে সরাসরি ক্রয়নীতিতে কেনা ৬ কার্গো আগে আমদানির নির্দেশ দেন।

২১ জুলাই থেকে (২৬ দিন ধরে) সারা দেশে ভয়াবহ গ্যাস সংকট চলছে। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা যুগান্তরকে জানান, মহল বিশেষ তদবিরকারীরা দেশের এই মুহূর্তের গ্যাস সংকটের জন্য দায়ী। তাদের কারণে বাইরে কোথাও জ্বালানি বিভাগের পরিচয় দেওয়া যায় না। কারণ জনগণ ক্ষুব্ধ। অথচ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিতে রাত-দিন কাজ করছেন। এখন গ্যাস সংকটের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর বিচার না করলে বিএনপি সরকারের ভাবমূর্তি দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে এলএনজি খালাস করতে গত কয়েকদিন কোনো কার্গোর ব্যবস্থা করতে পারেনি সরকার। আজ ডিপিএম পদ্ধতিতে জিংহু শিপিং নামের কোম্পানি একটি কার্গো সরবরাহ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটিও আসছে না। ২৩ আগস্টও একটি কার্গো আসার কথা। সেটিও আসবে না বলে জানা গেছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় সারা দেশে পেট্রোবাংলা গ্যাস সরবরাহ দিয়েছে ২২৮ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। অথচ শনিবার দেওয়া হয়েছিল ২৪০ কোটি ঘনফুটের বেশি। জানা গেছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে গ্যাসের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমছে।

চলতি মাসের শুরুতে ব্লেক কিউব, মেক্স অয়েল ও জিং হু শিপিং নামে তিনটি কোম্পানির কাছ থেকে ২টি করে মোট ৬ কার্গো এলএনজি কিনতে (প্রতি কার্গো ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকা) ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে প্রস্তাব পাঠায় জ্বালানি বিভাগ। এর মধ্যে ব্লেক কিউব প্রতি ইউনিট ১৩ ডলার, মেক্স অয়েল ২১ ডলারের একটু বেশি এবং জিং হু শিপিং ১৬ ডলার প্রতি ইউনিটের দর দেয়। যদিও স্পট মার্কেটে এখন দাম ২২ ডলারের বেশি। জ্বালানি বিভাগ দরপত্রবিহীন এই প্রস্তাবে পিপিএ-২০০৬-এর ধারা ৬৮(১) ও পিপির ২৫-এর বিধি ৯৭,৯৮ এবং ৯৯ অনুযায়ী এই কার্গোগুলো ক্রয়ের প্রস্তাব দেয়। এই ৬ কার্গো ৬ আগস্ট অনুমোদন দেওয়া হয়। এর প্রথমটি আজ আসার কথা ছিল। কিন্তু আসবে না।

জানা গেছে, এই ৬ কার্গো এলএনজি ক্রয় করতে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতা সুপারিশ করেন। কিন্তু এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারককে বারবার সাবধান করা হলেও কোনো কাজ হয়নি। রোববার বিকালে ওই ৬ কার্গোর পরিবর্তে স্পট থেকে ৫ কার্গো কেনার দরপত্র আহ্বান করে আরপিজিসিএল। সেই দরপত্রে বলা হয়েছে, ২৩, ২৬, ২৯ আগস্ট এবং ১ ও ৪ সেপ্টেম্বর এসব কার্গো সরবরাহ করতে হবে। আজ বিকাল ৪টার মধ্যে স্পটের এই ক্রয়ে দরপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, আজ সন্ধ্যায় জরুরি ভিত্তিতে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির জুম মিটিং ডাকা হয়েছে। যাতে এই কার্গোগুলোর অনুমোদন দেওয়া যায়।

এদিকে, গতকালও সরকার বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ বহাল রেখেছে। ২২৮ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট গ্যাসের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে দেওয়া হচ্ছে ৯৬ কোটির মতো। এছাড়া শিল্প খাতে ৯০১ কোটি, সার খাতে ২০ কোটি এবং অন্যান্য খাতে বাকি গ্যাস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে সারা দেশে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টির কারণে লোডশেডিং কিছুটা কমেছে। রোববার বিকাল ৫টায় সারা দেশে লোডশেডিং হয়েছে মাত্র ৩৬৫ মেগাওয়াট। এই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৩১৫ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ দেওয়া হয়েছে ১৩ হাজার ৯৫০ মেগাওয়াট।

কালের কণ্ঠ

‘সংকট কাটাতে গ্যাস উত্তোলনে বড় পরিকল্পনা সরকারের’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পেট্রোবাংলা বাস্তবায়ন করছে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি।

পরিকল্পনাটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দৈনিক প্রায় এক হাজার ৪০১ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। এতে আমদানীকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) নির্ভরতা কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমবে।

পেট্রোবাংলার হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত ২৯.৭৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ৩০ জুন পর্যন্ত প্রায় ২২.৪১ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে।

অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৭.৩৭ টিসিএফ। বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ক্রমাগত কমে আসায় ভবিষ্যতে দেশীয় গ্যাস সরবরাহের ওপর চাপ আরো বাড়তে পারে। এ অবস্থায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার, পুরনো ক্ষেত্রের গভীর স্তরে অনুসন্ধান এবং দ্রুত উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় দুই হাজার ৬৮৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

একই সময়ে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ৫১ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সরকারকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি বহন করতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় এই চাপ আরো তীব্র হয়ে উঠেছে।

জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কালের কণ্ঠকে বলেন, এই পরিস্থিতিতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া ১৫০ কূপ কর্মসূচির আওতায় এরই মধ্যে ২৯টি কূপের খননকাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রায় ২৭০.৮ মিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১২৫.৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া আটটি কূপে খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম চলছে। এসব কাজ সফলভাবে শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে আরো প্রায় ৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মসূচির আওতায় বাকি ১১৩টি কূপের অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ওয়ার্কওভার পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পেট্রোবাংলার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫০ কূপের পুরো কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে দৈনিক প্রায় এক হাজার ৪০১ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে জাতীয় গ্যাস সরবরাহে দেশীয় উৎসর অংশ বাড়বে এবং এলএনজি আমদানির প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কমবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি এবং অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে সরকার ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন গ্যাসের সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র ও ব্লকে সাইসমিক ডেটা সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে নতুন লিড ও খননযোগ্য প্রসপেক্ট শনাক্ত করা হচ্ছে। এসব সম্ভাবনাময় এলাকায় দ্রুত অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় অনশোরে (স্থলভাগে) নতুন সম্ভাবনাময় ভূতাত্ত্বিক কাঠামো চিহ্নিত করে দ্রুত অনুসন্ধান কূপ খননের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন বাড়াতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, আধুনিক সাইসমিক জরিপ, সাবসারফেস মডেলিং এবং আধুনিক ড্রিলিং প্রযুক্তি প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। দক্ষ জনবল তৈরি ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।’

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘দিল্লির সঙ্গে দরকষাকষি অনুকূল পরিবেশে জোর’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা। গতকাল রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে ভারতের কাছে দুটি বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ চাওয়ার কথা স্পষ্ট হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলছে বলেও জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিন-তারিখ ঠিক হয়নি। যেহেতু দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে, তাই বলা চলে, এটা এখন দরকষাকষির পর্যায়ে আছে। ঢাকার চাওয়া ও দিল্লির পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর সফরের সময় নির্ভর করছে বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

ঢাকার চাওয়া দুটি বিষয় এখন স্পষ্ট। এক. সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রত্যার্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা। দুই, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা।

গতকাল দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম ব্রিফিংয়ে সরকারের এ অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ করছিলেন। তবে গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্য সেই পরিবেশকে নষ্ট করেছে।

মুখপাত্র বলেন, 'আমরা মনে করি, এই সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা দরকার। এ জন্য দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক অপরাধীর প্রত্যর্পণের অনুরোধ ত্বরান্বিত করা এবং হাদি হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত হস্তান্তরের অনুরোধ করা হয়েছে ভারতকে। এখন দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, তারেক রহমানের সফরকে শুধু আনুষ্ঠানিক সফর হিসেবে দেখছে না ঢাকা। সফরের আগে দুই দেশের সম্পর্কে জমে থাকা কিছু স্পর্শকাতর বিষয়েও দৃশ্যমান অগ্রগতি চাইছে। ফলে সফরের তারিখ নির্ধারণের পাশাপাশি এখন মূল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে- ভারত এই দুই বিষয়ে কতটা সাড়া দেবে। ইতোমধ্যে দুই পক্ষের সূত্র থেকে হাদি হত্যা মামলার আসামিদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর বিষয়ে ভারতের ইতিবাচক মনোভাবের তথ্য জোরালো হয়েছে। তবে ভারত চায়, হস্তান্তর, বিচার- সব যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে হোক।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে বড় পরিবর্তন আসে। ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান, সীমান্ত ও রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ভারতীয় ভিসা কার্যক্রমও ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক পর্যায়ের যোগাযোগেও এর প্রভাব পড়ে। পরে তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেসব বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেওয়া হয়।

এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর ভারত দিয়ে না হওয়াও কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে জুনে প্রথম বিদেশ সফরে তারেক রহমান মালয়েশিয়া যান। এরপর তিনি চীন সফর করেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মালয়েশিয়া ও চীন সফরের পেছনে ঢাকার নিজস্ব অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কারণ ছিল। মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে শ্রমবাজার ও অভিবাসন গুরুত্বপূর্ণ ছিল। চীনের সঙ্গে বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাও ছিল সফরের বড় বিষয়। তাই এসব সফরকে সরাসরি ভারতবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম বিদেশ সফর ভারত দিয়ে না করে ঢাকা এটাও বুঝিয়েছে- নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে একক কোনো দেশের ওপর নির্ভরতার জায়গা থাকছে না।

এরপর আসে দিল্লির আরেকটি আমন্ত্রণ। সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে তাঁকে আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল। ফলে দিল্লি সফরের দুটি সম্ভাব্য পথ তৈরি হয়। একটি রাষ্ট্রীয় দ্বিপক্ষীয় সফর, অন্যটি ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক।

ইত্তেফাক

‘আছে অর্জন, বড় চ্যালেঞ্জ জ্বালানি ও অর্থনীতি’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পূর্ণ হলো আজ। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধ্বস বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। পতিত পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ফেলে যাওয়া এক ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত শাসন কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অভিযাত্রা নতুন বাংলাদেশের পথরেখা রচনা করে চলেছে। শুরু থেকেই তারেক রহমান তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে জনকল্যানমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্টায় সর্বাত্মক ভূমিকা রেখে চলেছেন। বিগত ১৮০ দিনে অর্থনীতি পুনর্গঠন,আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ সংকট নিয়ন্ত্রণ ছিল মূল চ্যালেঞ্জের। তবে জনকল্যাণমূলক খাতের বিভিন্ন জটিল বাধা মোকাবিলা করে দৃশ্যমান নানা পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারের অনেকগুলোই পূরণ করা হয়েছে। সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকান্ড নিয়ে প্রস্তুত করা মূল্যায়ন প্রতিবেদনে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, জনকল্যাণ, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, প্রশাসনিক সংস্কার ও পররাষ্ট্রনীতিতে বিভিন্ন উদ্যোগ ও অর্জনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সরকার সংশ্লিষ্টরা গত ৬ মাসের সামগ্রিক কর্মকান্ডকে সন্তোষজনক হিসাবে দেখছেন।

তারা বলছেন, দেশের ভঙ্গুর অবকাঠামোর ওপর দায়িত্ব নিয়ে ‘নতুন বাংলাদেশ’ নির্মাণে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। সরকারের ১৮০ দিনের পথচলায় সামনে এসেছে নানা উদ্যোগ ও কর্মসূচির চিত্র। সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, প্রবাসীকল্যাণ, পরিবেশ, ক্রীড়া, নাগরিক সেবা এবং বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলার মতো বড় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তব অগ্রগতি নিয়েও চলছে হিসাব-নিকাশ।

সরকারের দাবি, ব্যক্তি-কেন্দ্রিকতার পরিবর্তে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, সরকারি ব্যয়ে মিতব্যয়িতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে নেতাদের ছবি ব্যবহারের প্রচলন বন্ধ, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি গাড়ির পরিবর্তে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার এবং সরকারি সফর ও আপ্যায়ন ব্যয় কমানোর মতো বিষয়ও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দাবি, সরকার প্রধান তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে ন্যায়পরায়ণতা, জবাবদিহি, মানবিক মূল্যবোধ ও দূরদর্শী টেকসই উন্নয়নকে হাতিয়ার করে এক নতুন বাংলাদেশের ভিত রচিত হচ্ছে। নির্বাচনের আগে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফার ভিত্তিতে রাষ্ট্রকাঠামোকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভীর মতে,নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছেন এবং নিজেই তা তদারকি করছেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ দ্রুত এগোচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক কিছু বাস্তবায়নও হয়েছে। তবে সরকারের ছয় মাসের কর্মকান্ডের মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুত্ ও জ্বালানি সংকট। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুত্ উত্পাদন ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও সিএনজি স্টেশনেও। এরই মধ্যে সরকার ঘোষণা দিয়েছে,আগামী সংসদ অধিবেশনে আগামী ১০ বছরের জ্বালানি সংকট সমাধানের পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।

সরকারের মন্ত্রী ও বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, স্বতঃস্ফূর্ত জনরায় ও পাহাড়সম আস্থা নিয়ে গঠিত বিএনপি সরকার কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটায়নি বরং রাষ্ট্র সংস্কারের এক নতুন অভিযাত্রা শুরু করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনেই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার ও পুনর্গঠনের ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, কৃষির পুনরুজ্জীবন, সামাজিক সুরক্ষার সমপ্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালীকরণ এবং বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘সাফল্য বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসের এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সন্ধিক্ষণে দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অচলাবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতা ও জনজীবনের বহুমুখী সঙ্কটের পটভূমিতে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের শাসনভার গ্রহণ করে এই সরকার। ১৭১তম দিন পার করে ১৬ আগস্টে এসে সরকার তার ১৮০ দিন বা প্রথম ছয় মাস পূর্ণ করেছে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেকোনো নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস মূলত নীতি নির্ধারণ, প্রাথমিক স্থিতিশীলতা আনয়ন এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের গতিপথ ঠিক করার সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। সরকার নিজেও দায়িত্ব গ্রহণের সূচনালগ্নে প্রথম ১৮০ দিনকে তাদের কর্মদক্ষতা ও প্রাথমিক সাফল্য মূল্যায়নের সময়সীমা হিসেবে ঘোষণা করে। অর্থনৈতিক সঙ্কট নিরসন, মূল্যস্ফীতি কমানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, ব্যাংক খাতের সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার যে বিশাল রূপরেখা দেয়া হয়েছিল ছয় মাস শেষে তা কতটুকু বাস্তবে রূপ নিয়েছে, আর কতটুকু কাগজের প্রতিশ্রুতিতে আটকে আছে, তা নিয়ে এখন সার্বিক হিসাব-নিকাশের সময় এসেছে।

সরকারের সমর্থক ও নীতিনির্ধারকদের দাবি- অর্থনৈতিক ধস ঠেকানো, রিজার্ভ পুনর্গঠন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং প্রশাসনে নতুন গতি আনার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। পক্ষান্তরে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিরোধী শিবির এবং সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের মতে-বাজারমূল্য, বিদ্যুৎ-গ্যাস সঙ্কট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ের চিত্র এখনো প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দূরে। ১৮০ দিনের এই যাত্রায় অর্জনের আলো কতটুকু উজ্জ্বল এবং ব্যর্থতার ছায়া কতটা গভীর তার একটি বিস্তারিত ও পর্যালোচনা নিচে উপস্থাপন করা হলো।

অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি: স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বনাম ভঙ্গুর পুনরুদ্ধার

দায়িত্ব গ্রহণের সময় সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ ছিল ভঙ্গুর অর্থনীতি। অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সঙ্কট, ব্যাংক খাতের বিশাল খেলাপি ঋণ, রাজস্ব ঘাটতি এবং বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা- সব মিলিয়ে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়ে।

ম্যাক্রো-অর্থনৈতিক সূচক ও মুদ্রানীতি : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ১১.৭ শতাংশে পৌঁছে, ২০২৬ সালের মে মাসে তা কমে ৯.৪ শতাংশে নেমে এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা গতি এসেছে এবং প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সপ্রবাহ ধারাবাহিক ইতিবাচক ধারা বজায় রেখেছে। বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ঘাটতিও আগের তুলনায় অনেকটা কমেছে।

সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবনায় ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বাজেটে ‘রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাক্সেলারেশন’ (৩আর) কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যবসায়িক সহজীকরণের লক্ষ্যে ‘ডুয়িং বিজনেস’ প্রক্রিয়ায় অনুমোদন পাওয়ার সময়সূচি এক বছর থেকে কমিয়ে মাত্র ১৪ দিনে আনার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

বণিক বার্তা

‘আমদানির ৭৫% কয়লা স্থানীয় উৎস থেকে মেটানোর পরিকল্পনা সরকারের’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে প্রতি বছর তাপভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানি করা হয় ২০ মিলিয়ন বা ২ কোটি টনের মতো। জীবাশ্ম এ জ্বালানি দেশের বড় ছয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহার করা হয়।

অন্যদিকে বড়পুকুরিয়া খনি থেকে উত্তোলন করা কয়লার পুরোটাই ব্যবহার হয় ওই এলাকায় স্থাপিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। সরকার জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের কথা জানিয়েছে। এ খনি থেকে উত্তোলন শুরু হলে বছরে ১৫ মিলিয়ন বা দেড় কোটি টন কয়লা পাওয়া যাবে বলে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএমসিএল) সূত্রে জানা গেছে। জ্বালানি বিভাগের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, সেক্ষেত্রে দেশে স্থাপিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য আমদানি করা কয়লা চাহিদার ৭৫ শতাংশই স্থানীয় উৎস থেকে মেটানো যাবে। তাদের মতে, এতে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের চাপ কমবে, তেমনি সাশ্রয় হবে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। কমবে আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি।

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় সরকার ১০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করবে। পরিকল্পনাটি এ মাসে জাতীয় সংসদে তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে। এতে স্থানীয় কয়লা উত্তোলন নীতির বিষয়টিও থাকবে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ জ্বালানি নীতি আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত গতকাল এক সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন আমরা কয়লার উত্তোলনের দিকে যাচ্ছি। ফুলবাড়ী ও অন্যান্য স্থানে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনে এগোতে হচ্ছে। কারণ আমাদের সামনে অন্য কোনো বিকল্প নেই। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মিশ্রণের বিষয়ে আমরা মোটামুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ জ্বালানি নীতি দেয়া হবে।’

দেশে ফুলবাড়ী কয়লা খনিতে ৫৭২ মিলিয়ন টন কয়লার মজুদ রয়েছে। এ খনি থেকে ৪৭২ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করা যাবে। বিসিএমসিএলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছরে ফুলবাড়ী খনি থেকে ১৫ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করা যাবে। দেশে ছয়টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বছরে ২০ মিলিয়ন টন কয়লা আমদানি হচ্ছে। ফলে ফুলবাড়ী থেকে বছরে ১৫ মিলিয়ন টন কয়লা পাওয়া গেলে তা দিয়ে দেশের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য আমদানি করা কয়লার ৭৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ করা যাবে। বর্তমানে ফুলবাড়ী খনির ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বিসিএমসিএলের এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ফুলবাড়ী কয়লা খনিতে ২৪০ মিটার মাটির নিচেই কয়লা, যা খুব কাছাকাছি। বছরে এ খনি থেকে বছরে ১৫ মিলিয়ন টন কয়লা পাওয়া যাবে, যা দিয়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আমদানি কয়লার ৭৫ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা মেটানো যাবে। সরকার কয়লা উত্তোলনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে এবং যাবতীয় কাজ শেষ করতে পারলে এ খনি থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় কয়লা উত্তোলন করতে পাঁচ বছর সময় লাগবে।’

দেশের পাঁচটি খনির মধ্যে বর্তমানে শুধু বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। এ খনি থেকে বছরে সাত লাখ টন কয়লা উত্তোলন করছে চীনা কনসোর্টিয়াম এক্সএমসি-সিএমসি। বিসিএমসিএল সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ী কয়লা খনি কারিগরিভাবে প্রস্তুত রয়েছে। এ খনি থেকে কয়লা উত্তোলনে কমপ্রিহেনসিভ ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়েছে। ৫৭২ মিলিয়ন টন মজুদ থাকা কয়লার মধ্যে ৪৭২ মিলিয়ন টন উত্তোলন করা যাবে।

দেশে স্থাপিত কয়লাভিত্তিক সাতটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ৭ হাজার ৩১২ মেগাওয়াট। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাদে বাকি ছয়টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বছরে অন্তত ২০ মিলিয়ন টন কয়লা আমদানি করতে হয় বিপিডিবিকে। এ কয়লার স্থানীয় বাজার মূল্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে কয়লা আমদানির ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তি হয় ১১৯ কোটি ১১ লাখ ডলারের। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরলে বাংলাদেশী মুদ্রায় এ কয়লা আমদানি মূল্য ১৪ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘দুর্বল প্রশাসনে কাটেনি স্থবিরতা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, চব্বিশের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর বিপর্যস্ত আমলাতন্ত্রকে আওয়ামী লীগ আমলের দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত করতে অন্তর্বর্তী সরকার দফায় দফায় প্রশাসনের নানা স্তরের কর্মকর্তাদের ওএসডি করে। এতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আমলাতন্ত্রে; মনোবল হারিয়ে কার্যত একটি দুর্বল প্রশাসনে রূপ নেয়। এরপর চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের ৬ মাসেও প্রশাসনে স্থবিরতা খুব বেশি কাটেনি।

জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর মনোবল হারানো দুর্বল প্রশাসন নিয়েই যাত্রা শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সরকারি কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া আশ্বাস মিলেছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রশাসনিক রদবদলে (পদায়ন ও পদোন্নতি) প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির তেমন প্রতিফলন ঘটেনি। প্রশাসনে আসেনি দৃশ্যমান গতি। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিবঞ্চিতরা ঊর্ধ্বতন পদ, পদায়ন ও অন্য সুযোগ-সুবিধা পেতেই বেশি আগ্রহী। বর্তমান সরকারের নিজস্ব উন্নয়ন দর্শন ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে তাদের তেমন মনোযোগ নেই। ফলে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির তালিকায় থাকা অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রত্যাশা অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

জানা গেছে, প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে এখন ভিন্ন ভিন্ন দর্শনের কর্মকর্তা আছেন। এতে সরকারের অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংকট দেখা দিচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর এবং বিএনপির ৬ মাসে ওএসডি হয়ে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত কর্মকর্তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭শর মতো। অন্যদিকে এর আগে আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালেই ১০ সচিবসহ ২২৪ কর্মকর্তাকে ওএসডি করেছিল। ২০১৮ সাল নাগাদ ওএসডি হওয়া কর্মকর্তার সংখ্যা ২ হাজারে পৌঁছায়। আওয়ামী লীগের শাসনামলে ওএসডি অবস্থায় চাকরিজীবন অবসান হওয়া ছাড়াও অনেকে শারীরিক-মানসিক অসুস্থতার শিকার হয়েছেন। এমনকি এক কর্মকর্তার আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদেরকে একটা বড় কাজ করতে হয়েছে। জনপ্রত্যাখ্যাত সরকারের দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনের সব স্তরে তাদের নিজস্ব ধ্যান-ধারণার কর্মকর্তারা ছিলেন। তাদেরকে সরাতে হয়েছে। এসব জায়গায় রিপ্লেস করে জুলাই চেতনাকে এগিয়ে নেওয়াটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। তারপরও কমপিট্যান্সি ইজ এ মাস্ট, তা না হলে সরকার যে পদে বা যে দায়িত্বে একজন কর্মকর্তাকে পদায়ন করল সে উদ্দেশ্য অর্জন হবে না।’

তিনি বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনায় পদায়ন হয়েছে। আরও দেখছি, দিনে দিনে ওএসডির সংখ্যা বাড়ছে। এদের মধ্যে যোগ্যতর কেউ যদি থাকেন তাকে কাজে লাগানো উচিত। মনে রাখতে হবে, একজন যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তা রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর। তাকে তৈরি করতে রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় হয়। সুতরাং রাষ্ট্রকে তার প্রতিদান দেওয়ার আছে। দেশ ও জাতি তার মেধা ও কাজের মাধ্যমে উপকৃত হবে। তবে কনসার্টেড এফোর্ট বা সিংক্রোনাইজেশন বলে একটা কথা আছে। দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের এ বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার পরিচালনায় সহায়তা করতে হবে।’

বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘সাগরে প্রাণ গেল ১১ বাংলাদেশির’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে খাদ্যসংকট ও নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী। লাশগুলোতে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। জীবিত উদ্ধার হয়েছেন আরও ১৮ বাংলাদেশি। তাদের মিসরের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে মিসরের বাংলাদেশ দূতাবাস। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩ আগস্ট রাতে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। নৌকাটিতে থাকা ৩৮ জনই বাংলাদেশি। যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকায় থাকা খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। এরপর খাবার ও পানি ছাড়াই নৌকাটি নিয়ে বিপজ্জনক যাত্রা অব্যাহত রাখেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে নৌকাটি সাগরে ভাসতে থাকে। খাবার ও পানির সংকটে তাদের চোখের সামনেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। লাশগুলোতে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা। এভাবে টানা ৯ দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর বাতাসের স্রোতে নৌকাটি মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছায়। পরে মিসরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ থানার পাথারিয়া গ্রামের আবদুল হেকিমের ছেলে আবদুল করিম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর আমাদের নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। ফলে আর সামনে এগোতে পারিনি। এ সময় আমাদের উদ্ধার করতে দালালের লোকজন কিংবা অন্য কোনো সংস্থা এগিয়ে আসেনি।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে খাবার বা পানি কিছুই ছিল না। খাবার ও পানির অভাবে চোখের সামনেই ৯ জন বাংলাদেশি মারা গেছে। তাদের লাশ সাগরে ফেলে দিতে হয়েছে। পরে আরও দুজন মারা যান। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে আমাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আমরা এখন মারসা মাতরুহ হাসপাতালে ভর্তি। এখানকার চিকিৎসকরা আমাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং ভালো খাবারেরও ব্যবস্থা করছেন। আমাদের বাঁচান। আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই। তবে আবদুল করিমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানে না তার পরিবার। যোগাযোগ করা হলে তার মা আকলিমা বেগম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার ব্যাপারে ছেলে আমাদের কিছু বলেনি।

আবদুল করিমের মামা ও পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুর রাজ্জাক জানান, বিষয়টি এই মাত্র আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমার ভাগনে সৌদি আরবে থাকত। সে যে সাগরপথে গ্রিসে যেতে চেয়েছে এ ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না।

মিসরের স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তারা মোট ৩০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এর মধ্যে ১৮ জনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাদের নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।

মিসরের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শরিফ এবং স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের বাদরান নামের এক কর্মকর্তার সঙ্গে দূতাবাসের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আহত বাংলাদেশি নাগরিকরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিসরের সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আটক বাংলাদেশিদের ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।