সদর দক্ষিণে মাদকবিরোধী র‌্যালি ও সমাবেশ

সদর দক্ষিণে মাদকবিরোধী র‌্যালি ও সমাবেশ

ফন্ট সাইজ:

মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি এবং যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে কুমিল্লার সদর দক্ষিণে মাদকবিরোধী র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও আয়োজনে বামিশা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সদর দক্ষিণ মডেল থানার পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
কর্মসূচির শেষে বামিশা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে একটি মাদকবিরোধী র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বামিশা বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বামিশা উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটে এসে শেষ হয়। এর আগে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সচেতনতামূলক সমাবেশ।

সমাবেশে সদর দক্ষিণ মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার দিলীপ মজুমদার, এসআই মাহবুব, এএসআই কবির, এএসআই নুরুজ্জামান, এএসআই নাসেরসহ থানার পুলিশ সদস্যদের সার্বিক প্রচেষ্টায় কর্মসূচিটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
সমাবেশে বক্তারা মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, এর ক্ষতিকর প্রভাব পুরো পরিবার ও সমাজের ওপর পড়ে। তাই মাদক নির্মূলে পরিবার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বক্তব্যে সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, “মাদক একটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়; পরিবার ও সমাজের প্রত্যেক সচেতন মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে।”

বক্তারা আরও বলেন, মাদক মানুষের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। নিয়মিত মাদক গ্রহণের ফলে শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতা তৈরি হয়ে একজন মানুষ ধীরে ধীরে আসক্ত হয়ে পড়তে পারে। এর প্রভাব শুধু ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; পরিবার ও সমাজও নানা সংকটে পড়ে।
মাদকাসক্তির অন্যতম কারণ হিসেবে বক্তারা খারাপ সঙ্গ ও সহপাঠীদের চাপ, পারিবারিক অশান্তি, কৌতূহল, অল্প বয়সে নিজেকে ‘স্মার্ট’ প্রমাণের প্রবণতা, মানসিক হতাশা ও ব্যর্থতা এবং মাদকের সহজলভ্যতার কথা উল্লেখ করেন।
মাদকের সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষতির বিষয়ে বক্তারা বলেন, মাদকের কারণে পরিবারের শান্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সংকট তৈরি হয়। একই সঙ্গে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধপ্রবণতা বাড়তে পারে। মাদকাসক্তির কারণে শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক মর্যাদাও নষ্ট হয়।
সমাবেশে মাদক প্রতিরোধে পারিবারিক বন্ধন ও নজরদারি বাড়ানো, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার, তরুণদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের ঘৃণা না করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সমাবেশে উপস্থিত সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন মজুমদার, চৌয়ারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামছুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুল কুদ্দুস, সাংবাদিক জসিম উদ্দিন চাষি, তাওহিদুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, মোতালেব হোসেনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।