রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় উঠেছে। আগামী রোববার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাটি কার্যতালিকার ২২ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। এদিন মামলাটির শুনানি হতে পারে। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান জানিয়েছেন, শুনানির জন্য তারা এখনো পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিতে পারেননি। ফলে আদালতে সময় চাওয়া হতে পারে।
হাফিজুর রহমান খান মানবজমিনকে বলেন, আমি এই মামলায় দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের পক্ষে আপিল শুনানি করবো। কিন্তু আজ শুনানি করার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি হয়নি। আমরা আদালতে দাঁড়িয়ে সময় আবেদন করবো। আদালত মঞ্জুর করে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করলে সেদিন মামলার শুনানি করবো। অন্যথায় আদালতেই প্রস্তুতি নিয়ে মামলার শুনানি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ যে প্রক্রিয়ায় সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়েছে এটি প্রশ্নবিদ্ধ ভাবে নেয়া হয়েছে। আমরা সাক্ষীর জবানবন্দিসহ বিস্তারিত পর্যালোচনা করে দেখছি। আমরা আশা করি নিম্ন আদালতের দেয়া এই সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আসামিরা ন্যায়বিচার পাবেন। আমরা সাজা কমার ব্যাপাারে আশাবাদী।
এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক মানবজমিনকে বলেন, এই মামলাটি কার্যতালিকার ২২ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। শুনানির জন্য আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতিও রয়েছে। তবে, হাইকোর্টের এই বিশেষ ব্যাঞ্চে প্রথমে নুসরাত এবং আসিয়া হত্যা মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হবে। পরে সময় থাকলে রামিসার মামলার শুনানি হবে। সে হিসেবে আজ এ মামলার শুনানি শুরু নাও হতে পারে। কিন্তু আসামিপক্ষ সময় আবেদন করলেও মামলার শুনানিতে কোনো সমস্যা হবে না।
দ্রুত চার্জশিট ও বিচার: মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান ২৫শে মে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। একই দিন মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এরপর ১লা জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পরদিন ২রা জুন রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। সবশেষে ৭ই জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলার রায় ঘোষণা করেন। অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে মামলাটির রায় দেয়া হয়। রায়ে ট্রাইব্যুনাল সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
