চট্টগ্রামে জাহাজভাঙা কারখানায় প্রাণ গেল দুই শ্রমিকের, গাইবান্ধায় শোকের মাতম

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ হারিয়েছেন গাইবান্ধার দুই তরুণ রানা মিয়া (২৩) ও খোকন মিয়া (২৬)। শনিবার সকালে নিহতদের মরদেহ তাদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। গত শুক্রবার সকালে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ‘ফেরদৌস স্টিল’ নামের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজভাঙা কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মোট ৯ জন শ্রমিক মারা যান, যার মধ্যে গাইবান্ধার এই দুই তরুণ রয়েছেন। নিহত রানা গাইবান্ধা সদর উপজেলার পশ্চিম কুপতলা গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে। অন্যদিকে নিহত খোকন মিয়া সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হলদিয়া গ্রামের মো. রানা মিয়ার ছেলে।

শনিবার দুপুরে কুপতলা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সন্তানকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন রানার মা মনোয়ারা বেগম (৫৫)। তিনি কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘হামার ব্যাটা ডিসি অফিসোত চাকরির আবেদন করচিলো। দুইদিন আগোত হামাক জানাচে মা, পরিক্ষে দেয়ার জন্নে বাড়িত আসপ্যার চাচিলো। বেতন পামো, সেই ট্যাকা নিয়া বাড়িত আসমো। ব্যাটা হামার বাড়িত আসলো লাশ হয়া। হামার ঘরের সবকিছু শ্যাস হয়া গেল। মাও বাপের সুখের জন্য দুনাত থাক চলি গেল। সুখের আসায় ব্যাটাক হারালাম। হামরা একন কাকে নিয়া বাঁচমো।’ রানার বড় ভাই মোনারুল ইসলাম জানান, অভাবের সংসারের হাল ধরতে এবং পড়াশোনার খরচ চালাতে রানা চট্টগ্রামে চাকরি নেন। তিনি বলেন, আগামী ২১শে আগস্ট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পরীক্ষার জন্য ওর বাড়ি আসার কথা ছিল।

যে কোম্পানিতে ও কাজ করতো সেখানে কোনো নিরাপত্তা ছিল না। ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমার ভাইটার প্রাণ গেল। আমরা এই কোম্পানির দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চাই। নিহত রানার বাবা হারুন অর রশিদ কান্না চেপে বলেন, আমি অসুস্থ, জমিজমা নেই। ছেলের পাঠানো টাকায় আমার চিকিৎসা চলতো। এখন আমার সব শেষ। অন্যদিকে সুন্দরগঞ্জের কিশামত হলদিয়া গ্রামে সরজমিন দেখা যায় একই চিত্র। শনিবার সকাল ১১টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে খোকন মিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়। ছেলের অকাল মৃত্যুতে দিশাহারা বর্গাচাষি বাবা মো. রানা মিয়া আহাজারি করে বলেন, ‘মানসের জমি আদি করি। তাক দিয়ে সোংসারোত চলে না। ম্যালা অভাব। ব্যাটার ট্যাকা দিয়া অবাব মিটানো, তাক হলো না। হামার ব্যাটার ক্ষতি হামরা কেমন করি পোষামো।’ খোকনের মা উর্মি বেগম (৫৪) কেঁদে কেঁদে বলেন, ‘হামরা কিছু বুজি নে। তোমরা হামার ব্যাটাক আনি দাও।’