খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী পালিত

খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী পালিত

ফন্ট সাইজ:

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দিনটি উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল টিঅ্যান্ডটি মাঠে দুস্থ, অসহায় এবং অসুস্থ মানুষদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখতে চায়। তারা দেখতে চায় প্রিয় মাতৃৃভূমিকে পৃথিবীর বুকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে। কিন্তু সামনে এগিয়ে যেতে এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে। শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সমাধানে অন্য রাজনৈতিক দল সরকারের চেয়ে ভালো পরিকল্পনা দিলে, তাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে এবং বাস্তবায়নও করা হবে। কিন্তু কেবল জনগণকে বিভ্রান্ত করতে অপপ্রচার ছড়ালে, জনগণের কাছেই তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। জনগণকে বিভ্রান্ত করা একজন রাজনীতিবিদের কাজ বা দায়িত্ব না; বরং জনগণকে ধৈর্য শেখানো এবং সঠিক পথ দেখানো তার দায়িত্ব।

দেশে বিশৃঙ্খলার রাজনীতির দিন শেষে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, মিথ্যাচার ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতি স্বৈরাচার সরকার করে গেছে। কিন্তু বর্তমান রাজনীতিবিদরা জনগণের কাছে উন্নয়নের প্রতিজ্ঞা করেছেন। তাই হঠকারিতা ও বিভ্রান্তির রাজনীতি বাদ দিয়ে জনমানুষের কল্যাণে পরিকল্পনা উপস্থাপন করুন। তিনি আরও বলেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাঙচুর করার রাজনীতির দিন এখন নেই। জনগণ আর সেই রাজনীতি সমর্থনও করে না। সরকারপ্রধান বলেন, ঢাকা-১৭ আসনে আমাদের প্রতিনিধিরা জনগণের সেবায় কাজ করছেন। পাশের লেকটি পরিষ্কার করতে ছয় মাস সময় লাগে। এসব সহজ কাজ না; কিন্তু সমালোচনা করা সহজ। তাই যারা সমালোচনায় ব্যস্ত আছেন, তারা এখনই মাঠে নামুন। মানুষ এবং দেশের জন্য কাজ করুন; সঠিক কথা বলুন। দেশে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এমন কথা থেকে বিরত থাকুন। তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা ’৭১ সালে ভুল করেছে, ’৮৬ সালে ভুল করেছে, ’৯৬ সালে ভুল করেছে, আবার ২০২৬ সালেও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

তাদের বলবো, এসব উস্কানির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসুন। মানুষের উপকারের পরিকল্পনা থাকলে সংসদে উপস্থাপন করুন। জনগণের সামনে তুলে ধরুন। আমরা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করবো। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি আবদুর রহমান সানী। ওদিকে জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে দলের সহস্রাধিক নেতা-কর্মী-সমর্থক অংশ নেন। মিলাদ মাহফিলে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে আমাদের জন্য একটা আনন্দের দিন যে, এই দিনে সেই নেত্রী জন্ম নিয়েছিলেন। যিনি বাংলাদেশের ভাগ্যের সঙ্গে জুড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং বাংলাদেশকে বারবার তার নেতৃত্ব সংগ্রামের মধ্যদিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন এবং বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করবার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমি শুধু এইটুকু বলতে চাই যে, আজকে বিএনপি যা অর্জন... একটা গণতান্ত্রিক দেশ গণতান্ত্রিক দল এবং এই দীর্ঘ সংগ্রাম ও লড়াই করে বিএনপি যে একটা সত্যিকারের রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে, তার মূল কারিগর কিন্তু এই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন সংগ্রাম-লড়াই, নিজের প্রশ্নে আপস না করা, দলকে ধারণ করা এবং নেতাকর্মীদেরকে স্বীকৃতি দেয়া- এই মহান নেত্রী আমাদের মাঝে আর নেই। তার অনুপ্রেরণা আমাদেরকে সবসময় অনুপ্রেরণা জোগায়।

আজকের এই দিনে আমরা সবাই এই শপথ নেবো যে, বিএনপিকে আমরা সত্যিকার অর্থেই এমন একটা গণতান্ত্রিক দলে পরিণত করতে চাই, যে দল সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে। আজকে যখন বিএনপি সরকার গঠন করেছে, প্রতিটি মানুষের আশা এই সরকার দেশের বেগম খালেদা জিয়ার যে নীতি ছিল, তিনি যে ভিশন-২০৩০ দিয়েছিলেন, পরবর্তীকালে তারই দলের যে আপনার কর্মসূচি দিয়েছেন ৩১ দফার তাকে বায়স্তবায়িত করার জন্য সামনের দিনগুলোতে কাজ করে যাবে, দলকে শক্তিশালী করবে এবং বাংলাদেশের সর্বমতকে অক্ষুণ্ন রাখবে। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভীর পরিচালনায় মিলাদে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম, ?যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সংসদ সদস্যসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।