প্রায় ২৫ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালটি। হাসপাতালটি ২০১৭ সালে ১শ’ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। হাসপাতালটিতে সোয়া লাখ মানুষের জন্য সেবা দিচ্ছেন একজন চিকিৎসক। পাশাপাশি সকল রোগের চিকিৎসা দিচ্ছেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো)। এ আধুনিক হাসপাতালটিতে চলছে চিকিৎসক, জনবল ও ওষুধ সংকট। জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ১৭৭টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে আছে মাত্র ১৯ জন। এ ছাড়াও বিভিন্ন ৩৮৮টি পদের মধ্যে ২৩১টি পদই শূন্য। ফলে প্রায় সোয়া লক্ষাধিক মানুষের জন্য একজন করে চিকিৎসক রয়েছে এই হাসপাতালে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, চিকিৎসক যোগদান করলেও উচ্চতর ডিগ্রির জন্য লবিং করে চলে যাচ্ছেন। এতে করে চিকিৎসক সংকট দূর হচ্ছে না। চিকিৎসক সংকটের কারণে সেকমো দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সেবার মান উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া নতুন ভবনেও রয়েছে নকশাগত ত্রুটি। সরজমিন দেখা যায়, হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের কারণে জরুরি বিভাগ এবং বহির বিভাগে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) এখন ভরসা। সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ চিকিৎসক না থাকায় সর্ব রোগের চিকিৎসা দিচ্ছেন সেকমো।
সেকমো নির্ভরশীল এই হাসপাতালে জটিল রোগের চিকিৎসা না পাওয়ায় বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভর হতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসার পেছনে সময় ও ব্যয় বেড়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক না থাকা এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাবে সাধারণ মানুষ সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী আসায় বারান্দা ও মেঝেতে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। ফলে সেবার মানে গতি আসছে না জেলার প্রধান এই হাসপাতালটিতে। ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ৮ তলা বিশিষ্ট এই হাসপাতালটি। তবে নির্মাণের পর থেকে শুধুমাত্র রোগী ভর্তি ছাড়া আর কোনো কার্যক্রম নেই নতুন ভবনে। নকশাকৃত ত্রুটির জন্য নেই জরুরি রোগী বহনের জন্য র্যাম সিঁড়ি ও আলাদা লিফট। এম্বুলেন্সচালক এরশাদুল হক বলেন, জরুরি ভিত্তিতে নতুন এম্বুলেন্স দরকার এই হাসপাতালে। অনেক পুরনো ২টি এম্বুলেন্স দিয়ে চলছে রোগী বহন।
প্রায় মাঝ পথে বিকল হওয়ায় রোগী নিয়ে পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। রোগী মজিবর রহমান ও জুলেখা বেগম বলেন, এই হাসপাতালে কয়েকটি বারান্দায় রেলিং নেই, বাথরুমের দরজা ভাঙা, টাইলস খসে পড়ে এবং ঝড় ও বজ্রপাতে জানালার গ্লাস ভেঙে পড়ে। এ ছাড়াও লিফট দুটো প্রায় সময় নষ্ট থাকে। এখানে শুধু টাকা খরচ হয় কিন্তু সেবা পাওয়া যায় না। ওষুধ নেই, যেকোনো পরীক্ষা- নিরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হয়। আর ২৪ ঘণ্টায় একবার ডাক্তার আসে রাউন্ড দিতে। ছুটির দিনে ডাক্তার আসে না। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা মোসলেম উদ্দিন ও মৌসুমি আক্তার বলেন, ইমার্জেন্সি হোক আর বহির্বিভাগে হোক এ হাসপাতালে সেকমো ডাক্তারই ভরসা। সেকমো দিয়ে রোগীর ভুল চিকিৎসার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া ভর্তি রোগীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
