টিনশেড ভবনেই চলছে চিকিৎসাসেবা

টিনশেড ভবনেই চলছে চিকিৎসাসেবা

ফন্ট সাইজ:

দেশের উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকার একের পর এক আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করলেও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা এখনো সেই উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত। আট বছর আগে উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও আজো সেখানে নির্মিত হয়নি একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফলে প্রায় দেড় লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা চলছে পুরনো একটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং অস্থায়ী টিনশেড ও আধাপাকা ভবনে। সরজমিন দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়, জরুরি বিভাগ এবং বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট একটি আধাপাকা ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। পুরনো টিনশেড ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় প্রায় এক বছর আগে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর অস্থায়ীভাবে এ ভবন নির্মাণ করে। কিন্তু এখানে নেই কোনো ভর্তি সুবিধা, নেই রোগীদের জন্য শয্যা। ফলে গুরুতর রোগীদের দ্রুত হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল কিংবা সিলেটে পাঠাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শায়েস্তাগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও যোগাযোগ কেন্দ্র। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এ অঞ্চলে যাতায়াত করেন। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো এখনো উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত ১২ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৮ জন। এর মধ্যে একজন চিকিৎসক সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেষণে রয়েছেন। চিকিৎসক ডা. ফাতেমা আক্তার নিশি গত বছরের আগস্ট মাস থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত এবং চিকিৎসক ডা. মিতা রানী পালও দীর্ঘদিন ধরে অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে নেই। এ ছাড়া একজন জুনিয়র কনসালটেন্টও অনুপস্থিত রয়েছেন। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অদিতি রায়, একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার এবং দুইজন মেডিকেল অফিসার নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অদিতি রায় বলেন, নতুন উপজেলা হওয়ায় এখনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মিত হয়নি।

বর্তমানে আটজন চিকিৎসক পদায়ন রয়েছে, তবে বিভিন্ন কারণে চারজন কর্মস্থলে নেই। দুইজন মেডিকেল অফিসার নিয়মিত জরুরি বিভাগে রোগী দেখছেন। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ থাকলেও রোগীর তুলনায় আরও ওষুধ প্রয়োজন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, শায়েস্তাগঞ্জে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে পাঁচ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো সেই প্রস্তাবের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলিছুর রহমান উজ্জ্বল বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য নতুন ১১১টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নিয়োগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হলেই শায়েস্তাগঞ্জে ৫০ শয্যার আধুনিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। এদিকে দীর্ঘদিনেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলায় দ্রুত আধুনিক ৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ, চিকিৎসক সংকট দূর করা এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হোক।