বহুল আলোচিত কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তৎকালীন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শৃঙ্খলা-১ শাখার সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ১১ থেকে ২০ গ্রেডের শূন্য পদে জনবল নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে অন্যায়ভাবে পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও পাওয়া গেছে।
এ ধরনের কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হয়। এ কারণে কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত অথবা বিধি অনুযায়ী অন্য কোনো উপযুক্ত দণ্ড দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তাকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ২৪শে অক্টোবর। ওইদিন কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালে আরএমও-এর বাসা থেকে কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে বের হতে দেখা যায়। এরপর অভিযোগ ওঠে, অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে নিজের বাসায় কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি দীর্ঘ সময় তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
