রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ কেন প্রযোজ্য নয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ কেন প্রযোজ্য নয়

ফন্ট সাইজ:

আ সন্ন ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা এবং বিশ্লেষণ জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রথমত, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো প্রতীক ব্যবহার করা হয় না এবং কোনো প্রার্থীর দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত হওয়ার পরিচয়ও ব্যবহৃত হয় না।
আমাদের সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে ‘রাজনৈতিক দল’-এর সংজ্ঞায় এমন অধিসংঘ বা ব্যক্তি-সমষ্টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা সংসদের অভ্যন্তরে বা বাইরে স্বাতন্ত্র্যসূচক কোনো নামে কার্য করেন।
সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের এই স্বাতন্ত্র্যসূচক পরিচয় দলীয় মনোনয়ন ও দলীয় প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। যেমন বিএনপি ‘ধানের শীষ’ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল নিজ নিজ প্রতীকের মাধ্যমে স্বাতন্ত্র্যসূচক অবস্থান গ্রহণ করে।

কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ও দলীয় প্রতীকের কোনো ব্যবস্থা নেই।
কোনো প্রার্থী দলীয় প্রতীকের অধীনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন না। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একজন সংসদ-সদস্য কোনো দলের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দেন না; তিনি একজন রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমপ্রসারণ হিসেবে দেখলে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক তাৎপর্য খর্ব করা হয়। কারণ রাষ্ট্রপতি দলীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান।

এখানেই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদকে ঘিরে একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করা প্রয়োজন। প্রশ্নটি শুধু এই নয়- রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো সংসদ-সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে কি না। আরও মৌলিক প্রশ্ন হলো-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রদত্ত ভোট কি ৭০ অনুচ্ছেদের অর্থে ‘সংসদে’ দলের বিপক্ষে ভোট হিসেবে গণ্য হতে পারে?

আমার বিবেচনায়, এর উত্তর নেতিবাচক।
প্রথমত, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর অধীনে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ৫ ধারায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ-সদস্যদের আহ্বান করে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করবেন। অর্থাৎ সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি; আহ্বান করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

অন্যদিকে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে হয় সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী। ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় সংসদ আহ্বানের স্বতন্ত্র সাংবিধানিক ব্যবস্থা নির্ধারিত হয়েছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান করবেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে।

সুতরাং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার কর্তৃক সংসদ-সদস্যদের আহ্বান এবং সংসদের অধিবেশন আহ্বান-দু’টি পৃথক সাংবিধানিক বিষয়।

সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়। ৭৪ অনুচ্ছেদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিধান রয়েছে এবং ৭৫ অনুচ্ছেদে সংসদের কার্যপ্রণালি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা নির্ধারিত হয়েছে।

সংবিধানের ৭৫ অনুচ্ছেদের (২) দফায় বলা হয়েছে, সংসদের বৈঠক চলাকালে উপস্থিত সদস্যের সংখ্যা ৬০-এর কম হলে সভাপতি বৈঠক স্থগিত রাখবেন কিংবা মুলতবি করবেন।

কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বৈঠক সংসদের অধিবেশন নয়। সেখানে সংসদের কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। কোনো বিল উত্থাপন হয় না, সংসদের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয় না এবং সংসদের কার্যপ্রণালিও অনুসরণ করা হয় না।

তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কি ৬০ জন সদস্য উপস্থিত না হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত বা বাতিল করতে পারবেন? না, পারবেন না। প্রথমত, এটি সংসদের অধিবেশন নয়; দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোটারদের ন্যূনতম উপস্থিতির এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে-এর অর্থ এই নয় যে সেটি জাতীয় সংসদের অধিবেশন। সংসদ কক্ষ একটি স্থান; সংসদের অধিবেশন একটি সাংবিধানিক কার্যপ্রক্রিয়া।

এই নির্বাচন যদি নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতো, তাহলে হয়তো এই বিভ্রান্তির সুযোগ কম থাকত। কিন্তু নির্বাচন সংসদ কক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়ায় তার সাংবিধানিক চরিত্র পরিবর্তিত হয় না।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে মনোনয়ন দাখিল, মনোনয়নপত্র পরীক্ষা, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ভোটগ্রহণের দিন ও সময় নির্ধারণ করেন।

সংসদের কোনো অধিবেশনে কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল, মনোনয়নপত্র পরীক্ষা বা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করার কোনো সাংবিধানিক সুযোগ নেই।

অতএব রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি স্বতন্ত্র নির্বাচন; এটি সংসদের কোনো অধিবেশন বা সংসদীয় কার্যক্রম নয়।
ভোট এবং সংসদ-সদস্যপদ-দু’টি পৃথক সাংবিধানিক বিষয়।

একজন সংসদ-সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার মুহূর্তে দু’টি পৃথক সাংবিধানিক বাস্তবতার অংশ হয়ে ওঠেন। একদিকে তিনি সংসদ-সদস্য হিসেবে একটি পদ ধারণ করছেন; অন্যদিকে সংবিধান তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের একটি বিশেষ সাংবিধানিক কার্য সম্পাদনের ক্ষমতা দিয়েছে।
এই দু’টি অবস্থানকে অভিন্ন করে দেখা যায় না।

তিনি কাকে ভোট দিয়েছেন-এটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল নির্ধারণের প্রশ্ন।
আর সেই ভোট দেয়ার কারণে তার সংসদ-সদস্যপদ থাকবে কি না-এটি ৭০ অনুচ্ছেদের প্রশ্ন।
অর্থাৎ প্রথমটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটের প্রশ্ন; দ্বিতীয়টি সংসদ-সদস্যপদের সাংবিধানিক পরিণতির প্রশ্ন।
৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী রূপে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি ক) উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন অথবা খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ-সদস্যের ভোট দলের বিপক্ষে কোনো সংসদীয় ভোট নয়। কারণ সংসদে কোনো বিল উত্থাপন হচ্ছে না, কোনো সংসদীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে না। তিনি সংসদ অধিবেশনে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিচ্ছেন না; তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন। আর রাষ্ট্রপতি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী নন; তিনি প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একজন প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়াকে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দেওয়া হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।
অতএব রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো সংসদ-সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলেও সেই ভোটকে ৭০ অনুচ্ছেদের অর্থে ‘সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট’ বলা যায় না।

সরকারি দলের চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে বলে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা সংবিধানের এই কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংসদ অধিবেশন চলাকালে সংসদের কার্যপ্রণালি অনুযায়ী কোনো বিল বা প্রস্তাবের ওপর সংসদ-সদস্য দলের বিপক্ষে ভোট দিলে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু সংসদ অধিবেশনের বাইরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের স্বতন্ত্র ভোটের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ-সদস্যরা ভোটার হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে ভোট দেন। এখানে তারা সংসদের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন না এবং কোনো সংসদীয় কার্যক্রমে দলের বিপক্ষে ভোট দিচ্ছেন না।

ধরে নিলাম, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থী ৩৪৯ জনের মধ্যে ১৭৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করলেন। কিন্তু বিরোধী দলের সদস্য সংখ্যা ৯০। বাকি ৮৫ টি ভোট এসেছে বিএনপির সংসদ-সদস্যদের কাছ থেকে।
এর জন্য কি বিএনপি’র ওই সংসদ-সদস্যদের আসন শূন্য হবে? আইনগতভাবে এর কোনো ভিত্তি নেই। কিন্তু কোনো পৃথক কারণে তাদের আসন শূন্য হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ওপর তার কোনো প্রভাব পড়বে কি? না।

কারণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তারা যে ভোট দিয়েছেন, তা নির্বাচনের সময় আইনানুগভাবে প্রদত্ত ভোট। সেই ভোটের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে যাবেন এবং নির্বাচন-পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
একটি ভোটের রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক পরিণতি হিসেবে সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হতে পারে; কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে ভোটটিও অবৈধ হয়ে গেল।

আইন যদি স্পষ্টভাবে ভোটটি বাতিল করার কথা না বলে, তাহলে পরবর্তী কোনো শাস্তিমূলক বা সাংবিধানিক পরিণতির মাধ্যমে পূর্বে বৈধভাবে প্রদত্ত ভোটকে অকার্যকর করে দেওয়া যায় না।
অর্থাৎ আসন শূন্য হওয়া এবং ভোট বাতিল হওয়া দু’টি পৃথক বিষয়।
রাষ্ট্রপতি কোনো রাজনৈতিক দলের সভাপতি নন, কোনো দলের সাংবিধানিক প্রতিনিধি নন। তিনি প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি। তার সাংবিধানিক অবস্থানই তাকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে একটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট যদি দলীয় হুইপের বাধ্যতামূলক আনুগত্যে আবদ্ধ একটি সংসদীয় ভোটই হতো, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য পৃথক নির্বাচন কাঠামোর প্রয়োজন হতো না; সংসদের অধিবেশনেই সেই ভোটের আয়োজন করা যেত। কিন্তু সংবিধান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য পৃথক সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সংসদীয় দলীয় ভোটের সঙ্গে অভিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই।

এখানেই গণতন্ত্রের একটি মৌলিক দ্বন্দ্ব সামনে আসে- দলীয় ম্যান্ডেট বনাম সাংবিধানিক ম্যান্ডেট।
সংসদ-সদস্য সাধারণ নির্বাচনে একটি দলের প্রতীক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির ভিত্তিতে নির্বাচিত হতে পারেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় তিনি এমন একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন, যার চূড়ান্ত ফল সমগ্র রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলে।

এই কারণে তার ভোটকে শুধু দলীয় আনুগত্যের যান্ত্রিক প্রকাশ হিসেবে দেখা যায় না।
গণতান্ত্রিক নির্বাচন শুধু ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া নয়; এটি ফলাফলের একটি নির্দিষ্ট আইনগত চূড়ান্ততাও সৃষ্টি করে।

নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ফলাফলকে বাতিল বা পরিবর্তন করতে হলে তার নির্দিষ্ট আইনগত ভিত্তি এবং নির্ধারিত পদ্ধতি থাকতে হয়।

কোনো সংসদ-সদস্য পরবর্তীতে তার পদ হারাতে পারেন-এটি এক ধরনের সাংবিধানিক পরিণতি। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি আগে যে ভোট দিয়েছেন, সেই ভোটও বাতিল হয়ে গেল।

অতএব, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রয়োগের প্রশ্নে দু’টি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি। প্রথমত, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ-সদস্যের ভোট ৭০ অনুচ্ছেদের অর্থে ‘সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট’ নয়।

দ্বিতীয়ত, কোনো কারণে কোনো সংসদ-সদস্যের আসন পরবর্তীতে শূন্য হলেও তার পূর্বে আইনানুগভাবে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট সেই কারণে বাতিল হয়ে যেতে পারে না।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদীয় দলীয় আনুগত্যের পরীক্ষা নয়; এটি প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের একটি স্বতন্ত্র সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের অধীন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক আহূত কোনো সংসদ অধিবেশন নয়; ফলে এটি সংসদীয় কার্যক্রমের অংশও নয়। অতএব, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটকে সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট হিসেবে গণ্য করার কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হওয়ার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।

লেখক: গীতিকবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
faraiæ[email protected]