সিলেটে গ্যাসের জন্য হাহাকার, সড়ক অবরোধ

সিলেটে গ্যাসের জন্য হাহাকার, সড়ক অবরোধ

ফন্ট সাইজ:

সিলেটে পাল্টে গেছে সড়কের দৃশ্য। যানবাহন চলাচল কম। সিএনজি পাম্পগুলোতে কয়েক কিলোমিটারের দীর্ঘ লাইন। চালকরা বসে আছেন। প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না। কবে মিলবে গ্যাস, জানেন না তারা। হঠাৎ চাপ আসে ৪-৫টি করে যানবাহনে গ্যাস দেয়া হয়। আবার চাপ কমে গেলে বসে থাকতে হচ্ছে। এই অবস্থায় সিলেটে গ্যাসের জন্য পরিবহন সেক্টরে ক্ষোভ বেড়েছে। কয়েকটি স্থানে পরিবহন শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। সিলেটে যখন গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে তখন বিদ্যুতের লোডশেডিং কমে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সিলেট অঞ্চলে বিদ্যুতের লোডশেডিং ছিল সহনীয়। কোথাও কোথাও লোডশেডিং হয়নি।

এতে করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরেছে। তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করা মানুষের মধ্যে বিদ্যুৎ নিয়ে ক্ষোভ কমেছে। গতকাল দুপুর ১২টায় সিলেট নগরের সুবহানীঘাটের পেট্রোলপাম্প। গ্যাসের চাপ কম থাকায় গাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছিলো না। সকাল থেকে হাজারো সিএনজি অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন গ্যাসের জন্য পাম্পে দাঁড়িয়ে ছিল।

তখন পাম্পের দু’দিকেই গাড়ির দীর্ঘ লাইন। একদিকে উপশহর ই-ব্লক অন্যদিকে সুবহানীঘাট পর্যন্ত ছিল যানবাহনের দীর্ঘ সারি। চাপ না থাকায় গ্যাস দিতে পারছিলেন না সংশ্লিষ্টরা। জুমার নামাজের পর চাপ আসায় তারা গ্যাস দেয়া শুরু করেন। তবে বেশি দিতে পারেননি। ক্ষণে ক্ষণে চাপ কমে আসে। আবার মেশিনের চাপ নিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। এভাবে বিকাল পর্যন্ত পাম্পে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিলো। তবে পাম্পের সামনে থাকা যানবাহনের লাইন ছিল দীর্ঘ। একটি গাড়ি গ্যাস পেলে আরও তিনটি এসে লাইনে দাঁড়ায়। সিলেট সিএনজি ওনার্স এসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিস্টার রিয়াসদ আজিম আদনান জানান, জুমার পর তার পাম্পে কিছুটা চাপ বেড়েছে।

এ কারণে ধীর গতিতে হলেও গ্যাস দেয়া সম্ভব হচ্ছে। এদিকে নগরের শিবগঞ্জে সুরমা অটো কেয়ার পাম্পের সামনে দুপুরে বিক্ষোভ করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। গ্যাস নিতে কয়েকশ’ সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে ওই পাম্পে দাঁড়িয়েছিলেন চালকরা। দুপুর পর্যন্ত তারা গ্যাস পাচ্ছিলেন না। চালক নুর উদ্দিন জানিয়েছেন, ভোর রাত থেকে তিনি পাম্পে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। গ্যাস পাচ্ছেন না। দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছে। কখন তিনি গ্যাস পাবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আলিম উদ্দিন জানিয়েছেন- গ্যাসের চাপ খুবই কম। এ কারণে পাম্প কর্তৃপক্ষ গ্যাস দিতে পারছে না। কিন্তু চালকদের তো পেটে ভাত নেই। গ্যাস পেয়ে ট্রিপে যাবে।

তাতে খাবারের জোগান হবে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সুরমা পাম্পে সামনে সড়ক অবরোধ করেন পরিবহন শ্রমিকরা। প্রায় আধাঘণ্টা সড়ক বন্ধ থাকে। এ সময় ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সিলেট জেলার ৫৪টি গ্যাস পাম্পে লিমিটের ৫০ শতাংশ করে গ্যাস দিচ্ছে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। ফলে প্রাপ্য গ্যাসও দিতে পারছেন না পাম্প মালিকরা। আর গ্যাস না পেয়ে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের নবীগঞ্জ, সিলেটের বিয়ানীবাজার এলাকায় দফায় দফায় বিক্ষোভ করেছেন পরিবহন সেক্টরের শ্রমিকরা। তাদের সঙ্গে শরিক হয়েছিলেন প্রাইভেট গাড়ির চালকরাও। বৃহস্পতিবার জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন সিএনজি পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের নেতারা।

তারা জানিয়েছেন, গ্যাস কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছিলেন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত গ্যাসের চাপ আগের মতোই থাকবে। এ কারণে তারা রাতে গ্যাস পাম্প বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু গতকাল সকাল থেকে পরিস্থিতি ছিল আগের মতোই। গ্যাসে চাপ কম ছিল। সিএনজি পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় নেতা জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, রাতে তারা কিছু কিছু পাম্পে গ্যাস বিক্রি করেছেন। এতে কিছুটা রক্ষা হয়েছে।

গণপরিবহনের চালকরা গ্যাস সংগ্রহ করতে পেরেছেন। শুক্রবার সকাল থেকে ফের গ্যাসের চাপ কমেছে। সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজী মো. মইনুল ইসলাম জানিয়েছেন- গ্যাস না থাকার কারণে সিলেটের সড়কে ৫০ ভাগ যানবাহন কমে এসেছে। গ্যাস তো পাম্পে এসেই সংগ্রহ করতে হয়। এ কারণে যেসব যানবাহনের গ্যাস শূন্যের কোটায় নেমেছে সেসব যানবাহনের চালকরা গ্যাস সংগ্রহ করতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে দাঁড়িয়েও গ্যাস না পাওয়ায় ক্ষোভ দেখাচ্ছে।