দুই বছর ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্মিত ‘মৈত্রীস্তম্ভ’র উদ্বোধন হয়েছে। তবে ছিল না কোনো আনুষ্ঠানিকতা। গুরুত্বপূর্ণ কোনো অতিথিও ছিলেন না।
মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী মিত্রবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে নির্মিত ওই স্তম্ভটি গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ উদ্বোধন করেন। পরে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সচিব এসে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি উদ্বোধন করবেন বলে গত মাসে আলোচনা হয়েছিল। পরে সে প্রোগ্রামটি হয়নি। এর আগে দু’দেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের এটি উদ্বোধন করার কথা শোনা গিয়েছিল।
অনাড়ম্বর উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের জানান সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তারা জাঁকজমকপূর্ণভাবেই এটি উদ্বোধন করতে চেয়েছিলেন। তবে সবাই আসলে একসঙ্গে হতে পারছিলেন না। জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্রটি জানায়, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছিল খুলে দেয়ার। ওই অর্থে উদ্বোধন নয়। জাস্ট প্রচারণার জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। এখন থেকে মানুষ দর্শনীর বিনিময়ে এটি দেখতে পারবে। মৈত্রীস্তম্ভ পরিদর্শনে দর্শনার্থীদের জন্য টিকিটের মূল্য যথাক্রমে ২০ ও ৩০ টাকা নির্ধারণ করেছে প্রশাসন।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর আত্মত্যাগ স্মরণীয় করে রাখতে ২০১৭ সালে আশুগঞ্জের ‘মৈত্রীস্তম্ভ’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৬ কোটি টাকা। পরে দু’দফা প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধিতে ৭২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। ২০২৪ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও এতদিন উদ্বোধন ছাড়াই ফেলে রাখা হয়। গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপড়েনের কারণে ‘মৈত্রীস্তম্ভ’ উদ্বোধনের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ফলে স্মৃতিস্তম্ভ এবং সেখানে শিশুদের জন্য নির্মিত পার্কের জিনিসপত্র নষ্ট হতে থাকে। যদিও গত বছর আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কাছে এটি হস্তান্তর করার পর থেকে উপজেলা প্রশাসন এটি দেখাশোনা করছে।
জানা যায়, ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর যৌথ কমান্ড গঠিত হয়। তারপর ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় পর্যন্ত পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় সৈন্যরাও যোগ দিয়েছিলেন। যুদ্ধে সীমান্ত জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৬৬১ জন ভারতীয় সৈন্য নিহত হন।
