চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে নির্জন স্থানে অটোরিকশা থামিয়ে শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। এতে শিশুর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার চরদুঃখিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ ও সরজমিন জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার পর শিশুকে তার বড় বোন একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তুলে দেন।
ওই অটোরিকশায় প্রথম শ্রেণির আরও এক ছাত্রী ছিল। বৃষ্টির মধ্যে কিছুদূর যাওয়ার পর নির্জন স্থানে অটোরিকশাটি থামিয়ে চালক পেছনের সিটে গিয়ে শিশুকে ধর্ষণ করে। শিশুর চিৎকার শুনে কাছাকাছি থাকা একটি মুরগির খামারের মালিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি জানতে চান। এ সময় তিনি চিৎকার করলে চালক দুই শিশুকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে দ্রুত চলে যান। খামার মালিক বলেন, ওই সময় প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। চিৎকার শুনলেও ঠিক কী ঘটেছিল, তা তিনি বুঝতে পারেননি। পরিবারের ভাষ্য, শিশু বাড়িতে ফিরে তার মাকে বিষয়টি জানায়। এ সময় তার পরনে থাকা পোশাকে রক্তের চিহ্ন দেখা যায়। তখনো রক্তক্ষরণ হচ্ছিল বলে জানান তার মা।
পরে শিশুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠান।
ঘটনাটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানানো হলে তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার পুলিশকে জানানো হয়। ফরিদগঞ্জ থানার এসআই আরিফ হোসেন, হেলাল উদ্দিন ও ফারুক হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তারা শিশুর পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শুক্রবার শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত জব্দ এবং অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজুসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্তকে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।
