জোরালো হচ্ছে চা শ্রমিক আন্দোলন

জোরালো হচ্ছে চা শ্রমিক আন্দোলন

ফন্ট সাইজ:

দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে মৌলভীবাজারের চা-বাগানগুলোতে শ্রমিকদের আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। একের পর এক কর্মসূচি পালনে জোরালো হচ্ছে দাবি আদায়ের আন্দোলন। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিপ্লব মাদ্রাজি পাশী ও সাধারণ সম্পাদক দীপংকর ঘোষ গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে চা শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী গেজেট ২০২৩-এর আলোকে ৫% ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে দৈনিক নগদ মজুরি ১৯৬ টাকা ঘোষণাকে অযৌক্তিক-অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে ৫০০ টাকা ঘোষণা করার আহ্বান জানান। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দৈনিক নগদ মজুরি ৫০০ টাকা। শ্রমিক স্বার্থবিরোধী গেজেট-২০২৩ বাতিল, চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন, ভূমির স্থায়ী মালিকানা নিশ্চিত করা এই চার দফা দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতেই বাংলাদেশ চা সংসদ একতরফাভাবে ১৯৬ টাকা মজুরি ঘোষণা করেছে। নেতৃবৃন্দ বলেন চরম দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে ১৯৬ টাকা দৈনিক মজুরি দেয়ার মধ্যদিয়ে চা শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকরা চরম অন্যায় করছে।

সরকার চা শিল্পকে একটি লাভজনক রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে ঘোষণা করছে। অপরদিকে যারা শ্রম দিয়ে চা শিল্পকে গড়ে তুলেছে সেই শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। যুগযুগ ধরে এই শোষণ-বঞ্চনা ও শ্রম দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দি করে রাখা হয়েছে এই জনগোষ্ঠীকে। এই বন্দিদশা থেকে চা শ্রমিকদের মুক্তি দিতে হবে। আমরা চা শ্রমিকদের দৈনিক নগদ মজুরি ৬০০ টাকা টাকা ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসলেও বর্তমান বাগান নেতৃত্বে ৫শ’ টাকা ঘোষণার দাবিতে আন্দোলনকে সমর্থন করছি। চা শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল ৫% ইনক্রিমেন্ট প্রদানের গেজেট ২০২৩ বাতিল এবং জাতীয় মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি করছি। অবিলম্বে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা এবং চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি রাখছি।
এদিকে ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে কুলাউড়া উপজেলার মুরইছড়া চা-বাগানে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। সমাবেশ থেকে ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির গেজেট বাতিল করে চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান শ্রমিকনেতারা।