চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রায় ৪৬ লাখ টাকার আয়-ব্যয়ের হিসাব গরমিল, আর্থিক অনিয়ম এবং সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের যথাযথ হিসাব না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত ১১ই আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে অভিযোগগুলো সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে করা অডিট প্রতিবেদনে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাবে প্রায় ৪৬ লাখ টাকার ঘাটতি বা গরমিলের তথ্য উঠে এসেছে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন ফি থেকে আয়, ব্যয়, ব্যাংক লেনদেন, বিল-ভাউচারসহ বিভিন্ন আর্থিক নথিতে অসঙ্গতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অডিট প্রতিবেদনে পুরনো খাতা-কাগজ ও পরিত্যক্ত সামগ্রী বিক্রির অর্থ যথাযথভাবে স্কুল ফান্ডে জমা ও হিসাবভুক্ত না করা এবং বিল-ভাউচারে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদনের ঘাটতির অভিযোগও রয়েছে। ‘ঋণ বিতরণ’ খাতে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৬৩ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও অর্থপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের ৫ লাখ টাকার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন: ২০২৩ সালে পিবিজিএসআই প্রকল্পের ৫ লাখ টাকা অগ্রণী ব্যাংকের সীতাকুণ্ড শাখা থেকে একক স্বাক্ষরে উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। অডিট প্রতিবেদনে ওই অর্থ কোন খাতে ব্যয় হয়েছে, তার যথাযথ বিল-ভাউচার বা বিস্তারিত হিসাব পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ২০ বছর ধরে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা, লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা ও লাইব্রেরিয়ান নিয়োগ না করা এবং কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা না করার মতো প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া বিভিন্ন অর্থের হিসাব নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী নিজাম উদ্দিনের আশঙ্কা, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনকে স্বপদে বহাল রেখে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়। তদন্ত কমিটিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কর্ণনা রহমানকে আহ্বায়ক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান চৌধুরী, সীতাকুণ্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. দিনাজুল আলম, কাপ্তেন শামসুল হুদা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোবারক আলী এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমত আরা বেগমকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। তবে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই অডিট করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অর্থ তিনি সরাসরি লেনদেন করেন না বলেও দাবি করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই অডিটে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ কতটা সত্য এবং এর জন্য দায়ী কারা-তা স্পষ্ট হবে।
