গজারিয়ায় এলপিজি সিলিন্ডারে চলছে সিএনজি অটোরিকশা

ফন্ট সাইজ:

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সিএনজি অটোরিকশায় জ্বালানি হিসেবে অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার। যাত্রীদের আসনের পেছনে দড়ি দিয়ে এসব সিলিন্ডার বেঁধে ঝুঁকি নিয়ে চলছে অটোরিকশা। এতে যেকোনো সময় অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরজমিন দেখা যায়, উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড থেকে হোগলাকান্দি হয়ে কালীপুরা ট্রলার ঘাট সড়কে অন্তত ২৪টি অটোরিকশায় এমন চিত্র দেখা যায়। প্রতিটি অটোরিকশায় যাত্রীদের আসনের ঠিক পেছনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এলপিজি সিলিন্ডার বাঁধা ছিল।

স্থানীয় সূত্র ও অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গজারিয়ার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। অনেক চালক ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না। এতে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কেউ কেউ বাধ্য হয়ে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডার অটোরিকশায় ব্যবহার করছেন। সিএনজির এক যাত্রী আবুল কাশেম বলেন, গাড়ির ভেতরে এভাবে গ্যাসের সিলিন্ডার রাখা খুবই ভয়ঙ্কর। বাধ্য হয়েই আমাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। সিএনজিচালককে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সিএনজি পাওয়া যাচ্ছে না। আরেক যাত্রী গুলজার বলেন, সিলিন্ডারটি আমাদের ঠিক পেছনে রাখা ছিল।

পুরো পথজুড়ে ভয় লাগছিল। সামান্য দুর্ঘটনা বা আগুনের সূত্রপাত হলে বড় বিপদ হতে পারে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এভাবে সিলিন্ডার ব্যবহার বন্ধ করা। তিনি আরও বলেন, আগে একই পথে ৪০ টাকা ভাড়া নেয়া হলেও এখন ৫০ টাকা নেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ঝুঁঁকি নিয়ে যাতায়াতের পাশাপাশি যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়াও দিতে হচ্ছে। তবে সিএনজিচালকদের দাবি, সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সংকট না থাকলে তারা ঝুঁকি নিয়ে এলপিজি ব্যবহার করতেন না। এক অটোরিকশা চালক বলেন, গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় সারা দিনেও গ্যাস পাওয়া যায় না। গাড়ি না চালালে পরিবারের খরচ চলবে কীভাবে। তাই বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করছি। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘদিনের গ্যাসসংকটের কারণ খুঁজে বের করে সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি যানবাহনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। গজারিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন অফিসার ফিরোজ মিয়া বলেন, এলপি গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য। সিলিন্ডারে ত্রুটি, অসতর্কতা কিংবা পরিবহনের সময় আগুনের সংস্পর্শে এলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী অটোরিকশায় এভাবে সিলিন্ডার বহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ভবেরচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ কামাল আখন্দ বলেন, যানবাহনে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার নিষিদ্ধ ও বেআইনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।