ডারউইনে দ্বিতীয় দিনও বাংলাদেশের

ডারউইনে দ্বিতীয় দিনও বাংলাদেশের

ফন্ট সাইজ:

২৯৭ থেকে ৩০৬ দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনে এই ১১ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ডারউইন টেস্টের প্রথম দুইদিনে অজিদের সুখস্মৃতি বলতে এতটুকুই। বাকিটা সময় দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর নজরকাড়া হাফসেঞ্চুরির সুবাদে চালকের আসনে রয়েছে তারা। তৃতীয় সেশনের শুরুতে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ফেরার বার্তা দিলেও বাকি সময়ে তাদের হতাশ করে আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। গতকাল মারারা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সফরকারীদের সংগ্রহ ১১০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান। আগের দিন স্বাগতিকদের মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয়ায় প্রথম ইনিংসে তাদের লিড এখন ১৫৩ রানের। হাতে রয়েছে আরও ৪ উইকেট। প্রথম দিনের ২৪ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ।

এদিন খেলা হয়েছে ৮৬ ওভার। টাইগাররা ৫ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে জমা করে ২৫৫ রান। সেখানে মূল ভূমিকা রাখেন তানজিদ ও শান্ত। আরও অবদান আছে মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহীম ও মেহেদি হাসান মিরাজের। শুধু তাই নয়, অসাধারণ বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতেও আস্থার পরিচয় দিচ্ছেন হাসান মাহমুদ। প্রথম সেশনে অভিজ্ঞ মুমিনুলের (৯৫ বলে ৪৯ রান) উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ২৭ ওভারে আনে ৮৫ রান। দ্বিতীয় সেশনেও পতন হয় কেবল একটি উইকেটের। মধ্যাহ্ন বিরতির পর ইতিহাসগড়া সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বিদায় নেন তানজিদ (১৯৭ বলে ১০১ রান)। এই সেশনেও ২৭ ওভার খেলা হলেও সফরকারীদের রান তোলার গতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা যোগ করে ১০৫ রান। অজি অফ স্পিনার ন্যাথান লায়নের বলে সিঙ্গেল নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তানজিদ, ১৮৮ বলে। এটি তার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। শুধু তাই নয়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড়ের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিও এটি। কেবল দ্বিতীয় বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে সেঞ্চুরি করলেন তানজিদ। এর আগে ২০০৬ সালে অজিদের বিপক্ষে শতক হাঁকিয়েছিলেন সাবেক তারকা শাহরিয়ার নাফিস।

তিনি ফতুল্লায় খেলেছিলেন ১৩৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপরীতে এই টেস্টের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের পথ গড়ে দিতে সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব তানজিদের। উদ্বোধনী জুটিতে সাদমান ইসলামের সঙ্গে ৫০ বলে ৩৬, দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মুমিনুলের সঙ্গে ১৮৯ বলে ১০২ ও তৃতীয় উইকেট জুটিতে শান্তর সঙ্গে ১৫৭ বলে ৯৩ রান যোগ করেন তিনি। তানজিদ সেঞ্চুরি স্পর্শের আগে লায়নের ওই ওভারেই সিঙ্গেল নিয়ে ফিফটিতে পা রাখেন শান্ত। সেজন্য তার লাগে ৭৪ বল। এই সংস্করণের ক্রিকেটে এটি তার সপ্তম হাফসেঞ্চুরি। চা বিরতির পর নতুন বল নিয়ে শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা তোপ দাগেন। দলীয় ১১ রানের মধ্যে আউট হন সেঞ্চুরির সুবাস পেতে থাকা শান্ত (১২৬ বলে ৮৪ রান), লিটন দাস (১২ বলে ০) ও মুশফিক (৫৫ বলে ৩৬ রান)। তবে স্বাগতিকদের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টায় বাগড়া দিয়েছেন মিরাজ ও হাসান। তাদের অবিচ্ছিন্ন সপ্তম উইকেট জুটির রান ১৪৭ বলে ৪৩। মিরাজ ৭৩ বলে ৩২ ও হাসান ৭৬ বলে ১৩ রানে ক্রিজে আছেন।

দিনের শেষ বলে অবশ্য সাজঘরে ফিরতে পারতেন মিরাজ। মারনাস লাবুশেনের বলে গালিতে তার তোলা নিচু ক্যাচ হাতে জমাতে ব্যর্থ হন ক্যামেরন গ্রিন। আজ তৃতীয় দিনে হাসানকে নিয়ে লিড বাড়াতে মাঠে নামবেন মিরাজ। এই রিপোর্ট পাঠকের নজড়ে আসারও আগেও ভেঙে যেতে পারে জুটি। তবে নিজেদের মাটিতে চাপে থাকা অস্ট্রেলিয়া এই জুটি ভাঙতে দ্বিতীয় দিনে ব্যবহার করেছে আট বোলার। সফলতার মুখ দেখেছেন বিশেষজ্ঞ চারজনই। দু’টি করে শিকার ধরেছেন মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউড। একটি করে উইকেট নিয়েছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও লায়ন।