ভোলার লালমোহন উপজেলায় স্কুল চলাকালীন সময়ে উপস্থিত না থেকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। উপজেলার পশ্চিম চরকচ্ছপিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে প্রতিপক্ষের চলাচলের পথে টিনের গেট নির্মাণ করেন এবং ওই গেটে তালা দিয়ে হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালকসহ অন্তত চার-পাঁচটি পরিবারের লোকজনের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমোহন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ওই এলাকার বাসিন্দা মোজাম্মেল মহরির কাছ থেকে বসতঘরসহ জমি দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন। জমি কেনার পর থেকে ওইসব বসতঘরের ভাড়াটিয়ারা সুন্দরভাবে বসবাস করছেন। তবে কিছুদিন আগে হঠাৎ করেই জমি বিক্রেতা মোজাম্মেল মহরির ভাই ছায়েদ হাওলাদার এবং পশ্চিম চরকচ্ছপিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন চলাচলের পথে টিন দিয়ে একটি গেট নির্মাণ করেন। পরে গেটটিতে তালা লাগিয়ে দেন তারা। অথচ ওই পথটি ব্যবহার করে হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষসহ কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করছেন।
তবে তাদের চলাচলের গেটে তালা দেয়ার ঘটনায় পরিবারগুলো বিড়ম্বনায় পড়েছেন। মো. সুমন নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ফারুক হোসেন একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। অথচ তিনি ঘটনার সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের জমিতে অবস্থান নিয়ে চলাচলের গেটে তালা দেন। এতে করে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ভেতরে থাকা বাসিন্দারা। অভিযোগের বিষয়ে পশ্চিম চরকচ্ছপিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন জানান, আমি স্কুলেই আছি। তবে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে প্রতিপক্ষের জমিতে তার অবস্থানের ভিডিও রয়েছে বলে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং এর সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে, প্রধান শিক্ষক হয়েও স্কুলের দায়িত্ব ফাঁকি দেয়ার ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
