২০ বছর পর সরাইলের ‘সীমানা খাল’ উদ্ধার

২০ বছর পর সরাইলের ‘সীমানা খাল’ উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের অরুয়াইলে দীর্ঘ ২০ বছর পর ‘সীমানা খালটি’ দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার করছেন প্রশাসন। গত ১০ই আগস্ট থেকে খালের সীমানা নির্ধারণে কাজ করেছেন উপজেলা ভূমি অফিস ও সংশ্লিষ্ট বিএডিসি’র সহকারী প্রকৌশলী মেরাজুল ইসলাম। ফলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি কাজের সুবিধার স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয়রা। নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর, ভূমি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অরুয়াইল বাজারের দক্ষিণ পাশে তিতাস ও সেতরা নদীর মোহনায় সীমানা খালটির উৎপত্তি স্থল। এটি অরুয়াইল ও বাদে অরুয়াইল গ্রামের মাঝ দিয়ে উত্তর পাশে ধামাউড়া গ্রামের কান্থার খালে মিলেছে। খালটির দৈর্ঘ্য ১৮৩১ ফুট ও প্রস্থ গড়ে ৩০-৩৫ ফুট। যুগ যুগ ধরে এই খাল দিয়েই অরুয়াইল সদর ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের পানি নিষ্কাশন হয়ে আসছিল।

সহস্রাধিক পরিবারের কৃষি কাজের পানির ভরসাও ছিল এটি। কিছু লোক খালটির উৎপত্তিস্থল সংলগ্ন বিএডিসি’র জায়গাও দখলে নিতে থাকেন। ফলে আস্তে আস্তে মাটি ফেলে খালটির উপর বসতি গড়ে তুলেছে দুই পাশের লোকজন। প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের দখলে চলে যায় খালটির ওই অংশ। খালের আকার ও আকৃতি নিশ্চিহ্ন করে ফেলেন দখলদাররা। বন্ধ হয়ে যায় গ্রামের পানি নিষ্কাশন, কৃষি কাজ ও নৌকা চলাচল। ফলে গত ২০ বছরেরও অধিক সময় ধরে খালটির একাংশ দখলদারদের কবলে। দখলদাররা ঘরবাড়ি নির্মাণ করে খালের অস্তিত্ব বিলীন করে ফেলেছেন। এতে বন্ধ হয়ে গেছে দুই গ্রামের পানি নিষ্কাশন। বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা।

অরুয়াইল গ্রামের বাসিন্দা আয়েত উল্লাহ (৬৮) ও বাদে অরুয়াইলের আমজাদ খান বলেন, সীমানা খালে এক সময় পানি প্রবাহ ছিল। মাছ ধরতাম। নৌকা চলতো। এই অংশটি বন্ধ হওয়ার পর থেকে গত ২০ বছর ধরে দুর্ভোগ আর কষ্টের শেষ নেই। উদ্ধারের কাজ দেখে খুবই ভালো লাগছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, মানুষের কষ্ট দূর করে কৃষি কাজের সুবিধা নিশ্চিত করতে খালটি উদ্ধার অরুয়াইল সদরসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। আইন-শৃঙ্খলা সভায় দখলের বিষয়টি একাধিকবার বলেছি। দাবি জানিয়েছি উদ্ধারের।

তাই উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আমি নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে উদ্ধার কাজ করছি। উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আকলিমা আক্তার বলেন, আমরা রেকর্ড অনুসারে পরিমাপ করে খালটির সীমানা নির্ধারণের কাজ করছি। সরকারি খাল দখলে নিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করা বিধিসম্মত নয়। আশুগঞ্জ উপজেলা বিএডিসি’র সহকারী প্রকৌশলী মেরাজুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষিকাজের সুবিধার্থে খালটি অবশ্যই উদ্ধারের পর খনন করবো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম খালটির উদ্ধার কাজ চলমান থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, সরকার নির্দেশিত ব্যক্তি উদ্যোগে ও স্বেচ্ছায় খাল খননের অংশ হিসেবে স্থানীয় চেয়ারম্যানের আবেদনের প্রেক্ষিতে ‘সীমানা খালটি’ উদ্ধার করা হচ্ছে।