বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে থামছে না রাবার চুরি। উপজেলার এ এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবানের অন্যতম প্রধান রাবার উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সংঘবদ্ধ চোরচক্রের দৌরাত্ম্যে বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে সম্ভাবনাময় রাবার শিল্প। প্রতিদিন রাতের আঁধারে বিভিন্ন রাবার বাগান থেকে রাবার চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে বাগান মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাও।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাইশারীর বিভিন্ন রাবার বাগানে রাত নামলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে চোরচক্র। বাগান থেকে সংগৃহীত রাবার চুরি করে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চোরাই রাবারের অবাধ কেনাবেচার কারণে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও চুরি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাগান মালিক ও স্থানীয়রা।
চুরির কারণে ইতিমধ্যে বাইশারীর দু’টি রাবার কারখানা- গাজী গ্রুপ ও বাইজিদ গ্রুপের কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত চুরি বন্ধ করা না গেলে আরও কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং বাইশারীর রাবার শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়বে। বাইশারী রাবার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন বলেন, ‘বাইশারী বান্দরবানের অন্যতম বড় রাবার উৎপাদন এলাকা। এখানকার বাগানগুলো থেকে নিয়মিত রাবার চুরি হচ্ছে। চোরাই রাবার একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে বাগান মালিকরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। ইতিমধ্যে গাজী গ্রুপ ও বাইজিদ গ্রুপের দু’টি রাবার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে বাইশারীর রাবার শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চোরাই রাবার কেনাবেচার সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। রাতের বেলায় বাগান এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো এবং চোরাই রাবার পরিবহন ও বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।’
বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলম বলেন, ‘বাইশারীর বিভিন্ন রাবার বাগান থেকে বহিরাগতরা প্রতিনিয়ত রাবার চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চলছে। চুরির ঘটনায় ইতিমধ্যে কয়েকটি মামলা হয়েছে। এরপরও চুরি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। রাবার শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন।’
স্থানীয় বাগান মালিকদের অভিযোগ, রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধভাবে রাবার চুরি হলেও অনেক ক্ষেত্রে চোরাই রাবার কোথায় যাচ্ছে বা কারা তা কিনছে- সেই বিষয়টি যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে না। তাদের দাবি, শুধু বাগান থেকে চুরি ঠেকালেই হবে না; চোরাই রাবার কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধেও অভিযান চালাতে হবে। বাগান মালিকরা বলেন, রাবার শিল্পের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে বহু শ্রমিক ও ব্যবসায়ী জড়িত। চুরি অব্যাহত থাকলে বাগান মালিকরা যেমন লোকসানে পড়বেন, তেমনি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও সংকুচিত হবে। ইতিমধ্যে দু’টি কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তারা আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় বাইশারীর রাবার বাগানগুলোতে নিয়মিত অভিযান ও রাতের পাহারা জোরদার, চোরাই রাবার কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উপযোগী পরিবেশ তৈরির দাবি জানিয়েছেন বাগান মালিক ও স্থানীয়রা।
