শিশু শাকিবের চিকিৎসা ব্যয় জোগাতে দুশ্চিন্তা

শিশু শাকিবের চিকিৎসা ব্যয় জোগাতে দুশ্চিন্তা

ফন্ট সাইজ:

আড়াই বছরের ফুটফুটে শিশু মো. শাকিব। জন্মের পর থেকেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছে সে। জ্বর, সর্দি, ঠান্ডা, অ্যালার্জি এবং শ্বাসকষ্টসহ একের পর এক সমস্যায় কাটছে তার ছোট্ট জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত। সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে বাবা-মা ছুটেছেন এক চিকিৎসকের কাছ থেকে অন্য চিকিৎসকের কাছে। শেষ মেশ ধরা পড়ে তার হার্টের সমস্যা। যখন তার হার্টের ব্যথা শুরু হয় তখন অসহনীয় যন্ত্রণায় কাঁদে শিশু শাকিব। সে ভোলার লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তারাগঞ্জ এলাকার ছফর আলী মুন্সিবাড়ির মো. বাচ্চুর ছেলে। বাচ্চু পেশায় একজন মাইক্রোবাস চালক। সীমিত আয়ে কোনো রকমে চলে তার সংসার। কিন্তু সন্তানের চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে ইতিমধ্যে তিনি ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। এখন শাকিবের চিকিৎসা ব্যয় জোগাতে মহাদুশ্চিন্তায় বাবা-মা।

শিশুর বাবা বাচ্চু জানান, শাকিব জন্মের পর থেকেই অসুস্থ থাকায় প্রথমে লালমোহনের শিশু চিকিৎসকদের পরামর্শ নিই। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে ছেলেকে ঢাকার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে নিই। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু এরইমধ্যে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে আমাকে ধারদেনা করতে হয়েছে। একপর্যায়ে অর্থের অভাবে নির্ধারিত সময়ে আর ছেলেকে ঢাকায় নিতে পারিনি। অসহ্য কষ্টে সারারাত চিৎকার করে কাঁদে সে। শাকিবের এই কান্না, অসুস্থতা আর অর্থের সংকট- সব মিলিয়ে এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। তবুও আবার দেনা করে শাকিবকে নিয়ে ঢাকার ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, শাকিবের হার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি রক্তনালি চিকন হয়ে গেছে। যার জন্য দ্রুত অপারেশন করতে হবে। দেরি হলে শাকিবের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসার জন্য এখন প্রথম পর্যায়ে অপারেশন করতে অন্তত ৬ লাখ টাকা প্রয়োজন। এরপর শাকিবের বয়স ৬-৭ বছর হলে আরও একটি অপারেশন করতে হবে। চিকিৎসক জানিয়েছেন- প্রথম অপারেশনটি করা গেলে আমার ছোট্ট ছেলে শাকিব কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠবে, ফিরতে পারবে স্বাভাবিক জীবনে। কিন্তু সামান্য আয়ের একজন মাইক্রোবাস চালক হয়ে আমার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব। সন্তানের চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছি। এ ছাড়া আমার সহায়-সম্বল বলতে রয়েছে শুধু বসতভিটাটিই।

একদিকে অসুস্থ সন্তানের কষ্ট, অন্যদিকে ঋণের বোঝা-এই কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষের সহযোগিতা চাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই আমার কাছে। তাই সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও দেশ-বিদেশের হৃদয়বান এবং বিত্তবান মানুষ ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে শাকিবের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা কামনা করছি। এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ বলেন, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে জন্মগত হৃদরোগীদের জন্য এক লাখ টাকা অনুদানের ব্যবস্থা রয়েছে। ওই অনুদানের জন্য শিশু শাকিবের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা তাদের অনুদান প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।