ভবন আছে, নেই চিকিৎসাসেবা

ভবন আছে, নেই চিকিৎসাসেবা

ফন্ট সাইজ:

সরকারি অর্থে নির্মিত হয়েছে আধুনিক দ্বিতল ভবন। রয়েছে ১০ শয্যার ওয়ার্ড, চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য পৃথক আবাসনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ৪৭ লাখ ৯১ হাজার ৬৮৫ টাকা। কিন্তু ভবন নির্মাণের এক যুগ পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা। চিকিৎসক নেই, নার্স নেই, প্রয়োজনীয় জনবল নেই, এমনকি নেই ওষুধও। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিংগাড়ী গ্রামের মা ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতালটি এখন পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা ছিল, ভৈরব নদের উত্তরাঞ্চলের শ্রীধরপুর, বাঘুটিয়া, শুভরাড়া ও সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের গর্ভবতী নারী, শিশু ও সাধারণ রোগীরা নিজ এলাকার কাছেই চিকিৎসাসেবা পাবেন। কিন্তু এক যুগেও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় হাসপাতাল চত্বরে জন্মেছে আগাছা। ভবনের বিভিন্ন অংশ দিয়ে অবাধে চলাচল করছে গরু-ছাগল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতাল নির্মাণে সিংগাড়ী গ্রামের শেখ নাদের হোসেন, শেখ মুনতাজ হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক শেখ প্রায় এক একর জমি দান করেন। তৎকালীন বাজারমূল্যে যার দাম ছিল প্রায় দুই কোটি টাকা।

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে শেষ হয়। একই বছরের মার্চে ভবনটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। হাসপাতালের জমিদাতা শেখ মুনতাজ হোসেনের ছেলে আমজাদ শেখ বলেন, ২০১৭ সালে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছিলেন। এরপর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। সরকারি স্থাপনা বন্ধ পড়ে থাকা খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মা ও শিশু বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একজন এফডব্লিউভি প্রতিদিন সেখানে যান। রোগী এলে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রেসক্রিপশন দেয়া হয়। তবে সেখানে কোনো ওষুধ নেই, চিকিৎসক বা অন্য কোনো স্টাফও নেই।