নেত্রকোণার কলমাকান্দার রংছাতি ইউনিয়নে কবরস্থানের আধিপত্য বিস্তার ও সেখানে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ৯টার দিকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আমগড়া এবং পানেশ্বর পাড়ার মধ্যে ১৮ কাঠা আয়তনের একটি পুরনো গোরস্থানের মালিকানা ও আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। আমগড়া গ্রামের কিছু বাসিন্দা গোরস্থানের রাস্তার পাশের অংশে ছোট দোকানপাট নির্মাণ করে বাজার তৈরি করতে চাইলে পানেশ্বর পাড়ার লোকজন তাতে বাধা দেয়। পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, কবরস্থানটি ওয়াক্ফ করা সম্পত্তি এবং এটি কেবল কবরস্থান হিসেবেই ব্যবহৃত হবে।
এই বিরোধ মীমাংসার জন্য প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সকালে গোরস্থানে ব্যানার ঝোলানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সকালে আমগড়া ও নল্লাপাড়া গ্রামের শত শত লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ও পানেশ্বর পাড়া গ্রামে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িঘর ও দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, হামলার সময় হামলাকারীরা কমপক্ষে ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে।
এ ঘটনায় দুইপক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে কেবল পানেশ্বর পাড়ারই ৫৪জন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কলমাকান্দা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত ৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। বাকি আহতদের চিকিৎসা কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলছে। কলমাকান্দা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
