বাংলাদেশে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলকে বিনিয়োগ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার একটি অধিকতর অনুমানযোগ্য এবং বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে। আমরা বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করছি, নিয়ম-কানুন সহজ করছি, কর ও ভ্যাট প্রশাসন ব্যবস্থার উন্নতি করছি, মুনাফা প্রত্যাবাসন সহজতর করছি, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমাচ্ছি এবং সরকারি সেবাসমূহকে ডিজিটালাইজ করছি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আমরা অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস এবং জ্বালানি নিরাপত্তা আরো উন্নত করছি।’
তিনি বলেন, ‘প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কিংবা পরামর্শক যেকোনো মাধ্যমেই হোক না কেন, বাংলাদেশ আমাদের জাতি গঠনে আপনাদের অবদানকে স্বাগত জানায়। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারিত করতে চাই, আমাদের আমদানি-রপ্তানি সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে চাই এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিস্তৃত কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকেও জুড়ে দিতে চাই।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা এবং আমাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে একটি উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কেবল বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণ করা নয়, বরং একটি টেকসই এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা। এটি বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। আমি আপনাদের পূর্ণ আস্থা নিয়ে বিনিয়োগ করার এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আসুন আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসারিত করি এবং আপনাদের কোম্পানির একটি সমৃদ্ধ উপস্থিতি নিশ্চিত করি। আসুন আমরা একসাথে বেড়ে উঠি। একটি সমৃদ্ধ, প্রতিযোগিতামূলক ও বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি বুঝতে পারছি, আপনাদের মধ্যে অনেকেই আমাদের দেশ যে সমস্ত সম্ভাবনা ও সুযোগ প্রদান করতে পারে, তা খতিয়ে দেখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগমন করেছেন। আমি আশা করি, আপনাদের এই সফর আমাদের সম্ভাবনার একটি স্পষ্ট ধারণা দেবে। রাজনীতিতে প্রবেশের আগে আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমার কর্মজীবন শুরু করেছিলাম। ফলে আমি জানি, ব্যবসার প্রসারের জন্য সঠিক নীতি এবং পরিবেশ কতটা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আমার বার্তাটি অত্যন্ত সাধারণ ও স্পষ্ট। আমাদের ৬ মাস বয়সী, প্রগতিশীল সরকার চায়, আমেরিকান কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক। আমরা আপনাদের মূলধন, প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে সাদরে আমন্ত্রণ জানাই। আপনাদের সাফল্যকে আরও সহজ করতেই আমরা এখানে রয়েছি এবং এটি আপনাদের প্রতি আমার ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের অসাধারণ কিছু শক্তিও রয়েছে। আমাদের রয়েছে একটি বিশাল ও ক্রমবর্ধমান বাজার। একটি তরুণ ও কঠোর পরিশ্রমী জনসংখ্যা এবং একটি কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান। আমাদের সরকার নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, একটি ব্যবসা-বান্ধব বাজেট এবং উদার অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতি গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল ভিশন হলো বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত অর্থনীতি গড়ে তোলা। আমরা চাই এই রূপান্তরে আমেরিকান ব্যবসাগুলো আমাদের অংশীদার হোক। জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, অর্থায়ন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন এবং লজিস্টিকস খাতে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। আপনাদের এই সফরকালে আপনারা ইতিমধ্যেই আমাদের অনেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আমি আশা করি সেই আলোচনাগুলো আমাদের অগ্রাধিকার ও সুযোগগুলো সম্পর্কে আপনাদের আরও ভালো ধারণা দিয়েছে। ৫০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এক্সিলারেট এনার্জির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত অব. অতুল কেশপ।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম এবং উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
