বরিশাল চিফ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে কোর্ট চত্বরে এ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর আদালতপাড়ায় পৃষ্ঠা ২০ কলাম ৪
আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুরো ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে পুলিশ। বিস্ফোরণের ঘটনায় বিএনপি নিন্দা জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর আদালত ভবনের গেটের ভেতরের ডান পাশে বিকট শব্দে বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তে আদালত চত্বরে হুড়োহুড়ি সৃষ্টি হয়। ছুটে আসে পুলিশ। আদালত চত্বরে প্রবেশের প্রধান ফটকের কাছে জুডিশিয়াল ভবনের সামনে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহসহ বিচারকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জানা গেছে, বিস্ফোরিত বোমাটি ককটেল জাতীয় কিছু একটা। বিকট শব্দ হলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বরিশাল মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এডভোকেট নাজিম উদ্দীন আহমেদ পান্না বলেন, অগণতান্ত্রিক কোনো শক্তি এ নাশকতার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এডভোকেট এইচ এম তসলিম উদ্দিন বলেন, যারা নাশকতা করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে জনগণ ও জাতীয়তাবাদী শক্তি মাঠে রয়েছে। এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ বলেন, প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো যাবে।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব এডভোকেট মীর জাহিদুল কবির জাহিদ বলেন, ‘বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মনে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এই ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানে পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদের দোসরদের চক্রটি দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বিচার বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত করতেই এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।’ বরিশাল জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এইচ এম তসলিম উদ্দিন বলেন, শান্ত বরিশালকে হঠাৎ অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে আদালত প্রাঙ্গণকে বেছে নেয়া হয়েছে। দুষ্কৃতকারীরা জনমনে ভীতির সঞ্চার করতে চাইছে। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে মূল পরিকল্পনাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিও জানান তিনি।
