সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দুই শিশুসন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে কামরুল হাসান (৩২) নামে এক বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত দুই শিশু মুহাদ্দিস মিয়া (৬) ও সাড়ে তিন বছর বয়সী তুলনা বেগম। কামরুল হাসান দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে। তিনি পেশায় ফেরিওয়ালা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কামরুল হাসানের বৃদ্ধ মা ফুলজান নেছা ও স্ত্রী আফরোজা আক্তারের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এর জেরে শুক্রবার দুপুরে কামরুল হাসান ও তার স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়।
পরে তিনি দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল জানান, গত শুক্রবার দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি সিলেটে যান এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বারান্দায় রাতে অবস্থান করেন। শনিবারও তিনি সিলেটে ছিলেন এবং রাতে একই স্থানে অবস্থান করেন। রোববার বিকালে দুই সন্তানকে নিয়ে সিলেট থেকে দিরাইয়ের উদ্দেশ্যে বাসে রওয়ানা হন কামরুল। পথে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডাবর এলাকায় বাস থেকে নেমে সড়কের পাশের দেকার হাওরে মেয়ে তুলনাকে ফেলে দেন বলে পুলিশকে জানান। পরে আরেকটি গাড়িতে সুনামগঞ্জ সদর থানা এলাকার মদনপুর পয়েন্টে আসেন। সেখানে ছেলে মুহাদ্দিসকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় পাশ্ববর্তী দেকার হাওরে ফেলে দেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। গত মঙ্গলবার শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ দেকার হাওর থেকে তুলনার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে। বুধবার সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় দেকার হাওরের হাইওয়ে সড়কের পাশ থেকে মুহাদ্দিস মিয়ার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
চরনারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরিতোষ রায় বলেন, বুধবার সকালে গ্রামবাসী কামরুলকে আটক করে তার কাছে নিয়ে আসেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, সোমবার রাতে বাড়িতে ফিরেছেন এবং রোববার নিজেই দুই সন্তানকে দেকার হাওরের পানিতে ফেলে হত্যা করেছেন। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হলে দিরাই থানা পুলিশ তাকে নিয়ে যায়। দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল দুই সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কারণ হিসেবে তিনি পারিবারিক কলহের কথা জানিয়েছেন।
