আফগানিস্তানে ২৪ লাখ মেয়ের শিক্ষা বন্ধ

ইউনেস্কোর রিপোর্ট

আফগানিস্তানে ২৪ লাখ মেয়ের শিক্ষা বন্ধ

ফন্ট সাইজ:

তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছর পরও আফগানিস্তানে প্রায় ২৪ লাখ মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তাদের শিক্ষার অধিকার অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো।
ইউনেস্কো সতর্ক করে বলেছে, মেয়েদের দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা থেকে দূরে রাখা মৌলিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল। ভিডিও সংবাদ সম্মেলনে ইউনেস্কোর জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রমের কর্মসূচি সমন্বয়কারী হোদা জাবেরিয়ান বলেন, ‘আফগানিস্তান এখনো বিশ্বের একমাত্র দেশ, যেখানে মেয়ে ও নারীদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ।’

তিনি বলেন, একটি শিশুর শিক্ষাজীবনে পাঁচ বছর কোনো সাময়িক বিরতি নয়। এটি কার্যত মাধ্যমিক শিক্ষার প্রায় পুরো একটি চক্রের সমান।
জাবেরিয়ান আরও বলেন, ‘মেয়েদের ও নারীদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার অধিকার অবিলম্বে এবং নিঃশর্তভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে ইউনেস্কো। এটি কোনো আলোচনার বিষয় নয়। এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং এর কোনো বিকল্প নেই।’
দুই দশকের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার শুরু করলে ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট তালেবান ক্ষমতা দখল করে।

ক্ষমতা নেওয়ার পরপরই তালেবান প্রশাসন মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়। পরে এই নিষেধাজ্ঞা উচ্চশিক্ষা, চাকরি এবং জনজীবনের আরও বিস্তৃত ক্ষেত্রেও সম্প্রসারিত করা হয়।
জাতিসংঘ, বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা, মানবাধিকারকর্মী এবং কয়েকটি মুসলিম দেশ নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহারের আহ্বান জানালেও তালেবান তা বহাল রেখেছে। তাদের দাবি, বিষয়টি আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।
জাবেরিয়ান বলেন, এসব নিষেধাজ্ঞার ফলে গত দুই দশকে আফগানিস্তানের শিক্ষাক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতি কার্যত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ২০০১ সালে মেয়েদের স্কুলে উপস্থিতি ছিল খুবই কম। কিন্তু ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষায় ভর্তি হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তান মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সত্যিই বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই অগ্রগতির একটি বড় অংশ এখন পুরোপুরি উল্টে গেছে।’
তবে মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আফগানিস্তানে শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ইউনেস্কো। স্থানীয় বিভিন্ন উদ্যোগ, সাক্ষরতা কর্মসূচি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংস্থাটি শিক্ষার সুযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
স্থানীয় বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রশিক্ষকদের বাড়িতে এসব শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের জ্ঞাতসারেই এসব কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে ইউনেস্কো। সংস্থাটি ও তার অংশীদারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ১ হাজারের বেশি প্রশিক্ষক এসব কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।

জাবেরিয়ান বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা যতদিনই বহাল থাকুক, আমরা আফগান শিক্ষার্থীদের পরিত্যাগ করতে পারি না।’ তিনি আরও বলেন, শিক্ষার সম্ভাব্য প্রতিটি পথ টিকিয়ে রাখতে ইউনেসকো স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও তাদের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।