মিয়ানমারে গ্যাস অনুসন্ধানে কানাডীয় কোম্পানি, বছরের শেষে ড্রিলিং শুরু

মিয়ানমারে গ্যাস অনুসন্ধানে কানাডীয় কোম্পানি, বছরের শেষে ড্রিলিং শুরু

ফন্ট সাইজ:

চলতি বছরের শেষ দিকে মিয়ানমারের উপকূলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রে সমুদ্রতলে ড্রিলিং বা খননকাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছে কানাডীয় প্রতিষ্ঠান কানাডিয়ান ফোরসাইট গ্রুপ (সিএফজি)। এই প্রকল্পে প্রতিষ্ঠানটি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা মিয়ানমারের সামরিক জান্তা-নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মিয়ানমা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজের (এমওজিই) সঙ্গে কাজ করবে।

জান্তা-নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সিএফজির চেয়ারম্যান ও চীনা বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক সংনিং শেনের নেতৃত্বে কোম্পানিটির নির্বাহীরা সোমবার এমওজিইর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জান্তা-নিযুক্ত তানিনথারি অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী জাও নাইং উর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তানিনথারি অঞ্চলের গভীর সমুদ্রের ব্লক এম১৫-এ গ্যাস অনুসন্ধান ও খনন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত সিএফজি ২০১৫ সালের মার্চে এমওজিইর সঙ্গে একটি প্রোডাকশন-শেয়ারিং চুক্তির (পিএসসি) আওতায় তানিনথারির গভীর সমুদ্র এলাকায় ব্লক এম১৫-এর অনুসন্ধানের জন্য দরপত্রে জয়ী হয়।

কোম্পানিটির এই উদ্যোগ এমন সময় সামনে এলো, যখন মিয়ানমারের সামরিক শাসকগোষ্ঠী গত জুনে সমুদ্রের তলদেশে চারটি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়। এসব গ্যাসক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে আনুমানিক ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্রটি তানিনথারি উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত এবং ৯০ শতাংশ সম্ভাব্যতার ভিত্তিতে সেখানে প্রায় ৯৫ টিসিএফ গ্যাস রয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে।

এই মজুত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসভান্ডার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাসক্ষেত্রটি ব্লক এম১৫-এর মধ্যেই অবস্থিত। আন্দামান সাগরে দক্ষিণ তানিনথারি উপকূলের কাছে কাদান দ্বীপের আশপাশে অবস্থিত এই ব্লকের আয়তন ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটারেরও বেশি।

২০১৭ সালে প্রকাশিত সিএফজির একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ব্লকটির ৮০ শতাংশ অংশীদারিত্ব কোম্পানিটির হাতে রয়েছে।

বিবিসি বার্মিজ নিউজের এক হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি থেকে সম্ভাব্য আয় মিয়ানমারের মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশের সমান হতে পারে।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এমওজিই আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। কারণ, প্রতিষ্ঠানটি মিয়ানমারের সামরিক শাসকগোষ্ঠীর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে কাজ করে এবং এর মাধ্যমে জান্তার চলমান যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অর্থায়ন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে অন্যান্য সমন্বিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় অংশ নিলেও কানাডা এখনো এমওজিইর ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি।

মানবাধিকার ও জবাবদিহিতা নিয়ে কাজ করা সংগঠন জাস্টিস ফর মিয়ানমার ২০২৩ সালে কানাডা সরকারের প্রতি এমওজিইর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছিল।