জামায়াতের ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী

জামায়াতের ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

জামায়াতের ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি রাজনীতিতে সম্প্রীতির বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এখানে একত্রিত হয়েছি, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। আসুন আমরা আল্লাহর পৃষ্ঠা ৮ কলাম ১
নামে শপথ গ্রহণ করি, আমাদের আগামীদিনের কাজগুলো হবে এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। আল্লাহর দরবারে সেই রহমত চাই, যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদেরকে এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের, দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করার তৌফিক দিবেন।
সংসদে বিরোধী নেতা এবং জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের আমন্ত্রণে ইফতার মাহফিলে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। ইফতারে প্রধানমন্ত্রী ও জামায়াতের আমীর একই টেবিলে বসেন। এ সময় বিএনপি ও জামায়াতের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
ইফতারে দাওয়াত দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আজকে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে, অনেক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে, অনেক আশা নিয়ে আমাদের সকলের দিকে তাকিয়ে আছে বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে।
আজকে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সকলে এখানে একত্রিত হয়েছি, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। কিছুদিন আগে দেশে নির্বাচন হয়েছে, এ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। যে গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশের মানুষ প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অকাতরে জীবন দিয়েছে, বিভিন্ন অত্যাচার-নির্যাতন, গুম-খুনের শিকার হয়েছে।
তিনি বলেন, এত ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজকের এই গণতন্ত্রের যাত্রা- যেটি সূচনা হচ্ছে বা হয়েছে নির্বাচনের মাধ্যমে সেটির সুযোগ পেয়েছি। এই ত্যাগের মাধ্যমেই, এই আত্মত্যাগের মাধ্যমে, হাজারো মানুষের অত্যাচার, লক্ষ মানুষের নির্যাতনের মাধ্যমে আমরা আমাদের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ আমরা ফিরে পেয়েছি। সেজন্যই প্রথমেই আসুন আমরা আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি।
ইফতারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, এলডিপি’র সভাপতি অলি আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সংসদ সদস্য সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এনসিপি’র সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ শিক্ষাবিদ, সাবেক বিচারপতি ও সিনিয়র আইনজীবী, কৃষিবিদ, চিকিৎসক, ওলামা-মাশায়েখ, কবি সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, বিশিষ্ট ব্যক্তি সম্পাদক ও সাংবাদিকসহ নানা পেশার মানুষ যোগ দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াত আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সঞ্চালনায় ক্বারী বেলাল হোসাইনের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বিকাল ৫.২০ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর সভাপতির বক্তব্যে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তার দল গতানুগতিক কোনো বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ফাংশন করতে চায় না। তিনি বলেছেন, আমরা চাই এই সংসদ হোক অর্থবহ, জনগণের সব চাওয়া-পাওয়ার কেন্দ্র। সরকারি দল যেমন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন আমরাও বিরোধী দলের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে চাই। আমরা চাই না জাতীয় সংসদের একটা সেকেন্ড নষ্ট হোক। জাতীয় সংসদ কারও চরিত্র হননের কেন্দ্রবিন্দু হোক, সেটা চাই না। বরং জাতীয় সংসদ হবে দেশের সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু।
জামায়াত আমীর বলেন, অতীতে আমরা বিরোধী দল দেখেছি। নির্বাচন যেমন আমি-ডামি ছিল সরকারি ও বিরোধী দলও তেমনি আমি-ডামি ছিল। এই ধরনের কোনো বিরোধী দল কোনো দেশের জন্য ভালো কোনো বার্তা বয়ে আনতে পারে না। তিনি বলেন, সরকারের গৃহীত সব সঙ্গত পদক্ষেপে আমাদের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতাও থাকবে। কিন্তু আমাদের বিবেচনায় আমরা যদি দেখি যে সরকার কোনো অসঙ্গত সিদ্ধান্ত কিংবা পদক্ষেপ নিয়েছেন আমরা প্রথমে দৃষ্টি আকর্ষণ করবো, করে সহযোগিতা করবো। সরকার আমাদের পরামর্শগুলো গ্রহণ করলে আমরা কৃতজ্ঞ হবো, জাতি উপকৃত হবে। সরকার আমাদের পরামর্শ গ্রহণ না করলে বিরোধী দলের যে ভূমিকা সেটাই আমরা পালন করবো।
তিনি বলেন, বিরোধী দল হিসেবে আমরা জাতির অধিকারের পক্ষে দাঁড়াবো এবং জাতিকে আমাদের সঙ্গে শামিল থাকতে বলবো। তবে আমরা এই সদিচ্ছায় রাখতে চাই এই ধারণাই পোষণ করতে চাই যে, এই সরকার সংসদকে আগামীতে এগিয়ে যাওয়ার বাহনে পরিণত করবে।
জামায়াত আমীর বলেন, কোনো বাহন কখনো এক চাকায় চলে না, দুটো চাকা মিনিমাম লাগবে। সরকারি দল যদি সামনের চাকা হয় তাহলে বিরোধী দল হবে পিছনের চাকা। একটা বাদ দিয়ে যানবাহন অবস্থায় আরেকটা একা চলতে পারবে না। আমরা সেই পথ চলায় সমন্বয় চাই এবং পারস্পরিক সম্মানের জায়গাটা চাই।
তিনি বলেন, যেসব কালো আইন এখনো আমাদের সংবিধানে রয়ে গেছে আমরা সম্মিলিতভাবে সেগুলা দূর করার প্রয়াস চালাবো। আর জাতিকে একটা সুস্থ বিকশিত সম্মানের জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে দাঁড় করানোর জন্য যে আইন সংযোজনের প্রয়োজন আমরা প্রত্যাশা করবো যে সরকারি দল এবং বিরোধী দল মিলে সেভাবেই আমরা এগিয়ে যাবো।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি এ রাজনীতিটা আমরা করতে পারি তাহলে অতীতের রাজনীতির যে হতাশাজনক ধারা এখন পর্যন্ত জাতিকে গ্রাস করে আছে, তার করাল গ্রাস থেকে আশাকরি জাতি মুক্তি পাবে ইনশাআল্লাহ।
জামায়াত আমীর বলেন, যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকে আমরা বিশ্বাস করি, তাদের হাতে কখনো মানুষের আমানতের খেয়ানত হতে পারে না। তারা মানুষের আমানতের ব্যাপারে বড়ই সতর্ক সজাগ থাকেন।
আল্লামা দিলাওয়ার হোসেন সাঈদীকে স্মরণ করে জামায়াত আমীর বলেন, ২০১৩ সালের এই দিনটি এই জাতির জন্য একটি কালো দিন ছিল। সেদিন একটি পারভার্টেড কোর্ট তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছিল। তার প্রতিবাদে শুধু আমাদের দলীয় কর্মীরা নয় সারা দেশের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদকে দমন করার জন্য সরকার অস্ত্রের ভাষা খুঁজে নিয়েছিল এবং একদিনেই ৭০ জন মানুষকে খুন করেছিল। এরপরে এক সপ্তাহে ১৬৪ জনকে খুন করেছিল। স্মরণ করেন জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের যাদের বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রয়াত বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে জামায়াত আমীর বলেন, সে সময় তিনি বিদেশ সফরে ছিলেন। সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে এসে তিনি এই অন্যায় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিলেন। আমরা তখন জেলে ছিলাম। আমরা জেল থেকে তা শুনেছি দেখেছি। তিনি এটাকে গণহত্যা বলে আখ্যায়িত করেছিলেন এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মুক্তিকামী মানুষের লড়াই বলে এটাকে তিনি অভিনন্দিত করেছিলেন। এই প্রতিবাদের সঙ্গে তিনি একাত্ম হয়ে সারা দেশে হরতাল ঘোষণা করেছিলেন। আমরা তার এই ভূমিকাকে চিরদিন কৃতজ্ঞতাবলে স্মরণ করবো।
জামায়াত আমীর বলেন, তিনি আজ দুনিয়ায় নেই। আল্লাহতাআলার দরবারে দোয়া করি আল্লাহতাআলা তার এই বান্দিকে উচ্চ মর্যাদায় একজন জান্নাতি মেহমান হিসেবে রাখুন। আজকে তার সন্তানের উপরে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। ইফতার মাহফিলে মোনাজাত করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক।



এম.টি রক্সি

৩ মাস আগে

এমন দেশের রাজনীতি চাই, যেখানে সম্প্রীতি বিরাজমান। জামাতের এই ফলাফলে অনেক কিছুর জন্ম দিয়েছে। জামাতের এতো ভোট ফেল কোথা থেকে। আমার মনে হয়, মেটিকোলাস ডিজাইন হতে পারে। আওয়ামীলীগ নির্বাচনে থাকলে এতো আসন পেতো না। আমার ধারণা আগামীতে এতো আসন পাবে না। তবে হ্যা, ১৯৭১ সালের জন্য সরাসরি দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে হবে। যদি....... বললে হবে না।

Emdadul

৩ মাস আগে

Ok….,..,
Durniti kicho hobe, bondo kora kothin .
Tobe , purser neei campian jeno na HOY .

মন্তব্য করুন