যেসব কারণে ইরানে হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে হামলার লক্ষ্য হলো ‘আমেরিকান জনগণকে রক্ষা করা’। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার উদ্দেশ্য হলো- ‘ইরানি শাসনের আসন্ন হুমকি নির্মূল করা’। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইরানি শাসনের হুমকি দূর করে আমেরিকান জনগণকে রক্ষা করা। তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেবো। আমরা তাদের নৌবাহিনী নিশ্চিহ্ন করে দেব। আমরা নিশ্চিত করব যে ওই অঞ্চলের ‘সন্ত্রাসী’ মিত্রগোষ্ঠীগুলো আর যাতে ওই অঞ্চল বা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করতে না পারে। আমরা নিশ্চিত করব ইরান যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। বার্তাটি খুবই সরল- তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। এই শাসনব্যবস্থা শিগগিরই শিখে যাবে যে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি ও ক্ষমতাকে কারো চ্যালেঞ্জ করা উচিত নয়।
এ পর্যন্ত তেহরানে ইসরাইলি হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে যেসব স্থানের কথা জানা গেছে তাহলো- গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা, পারচিন সামরিক কমপ্লেক্স। তবে ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক অ্যালান ফিশার বলছেন, ট্রাম্পের ম্যাগা (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) আন্দোলনের অনেকেই ইরান যুদ্ধকে ‘বোকামি বিদেশি যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছেন। এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই যে যুক্তরাষ্ট্র এ হামলা থেকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে পারবে, যেমনটি তারা জুন মাসের হামলার পর করেছিল। পাল্টা আক্রমণ হতে পারে। আর যদি কোনো মার্কিন সেনা বা সামরিক সদস্য আহত বা নিহত হন, তাহলে তা ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাপ তৈরি করবে। বিশেষ করে কারণ তিনিই বলেছিলেন, তিনি নির্বাচিত হয়েছেন তথাকথিত ‘বোকামি বিদেশি যুদ্ধ’ বন্ধ করার জন্য। তার নিজের ম্যাগা আন্দোলনের অনেকেই মনে করেন, পৃথিবীর অর্ধেক দূরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হলো একটি অপ্রয়োজনীয় বিদেশি যুদ্ধ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন