সরকারের কাছে যে প্রত্যাশা পঞ্চগড়বাসীর

ফন্ট সাইজ:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তথা বর্তমান সরকারের কাছে পঞ্চগড় জেলাবাসীর দাবি বহুমুখী। বিশেষ করে সংসদ সদস্যের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন, খাদ্যপণ্যের দাম স্বাভাবিকের মধ্যে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ দেয়াসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা করছেন মানুষ। পঞ্চগড় এম আর সরকারি কলেজ এলাকার সরকার হায়দার নামের এক বিশিষ্ট ব্যক্তি বলেন, ১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বিশেষায়িত হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ, শিক্ষানগরী, পর্যটন এলাকা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবার ও কৃষি কার্ড করা। এগুলো পঞ্চগড়ের মানুষের জন্য খুবই জরুরি। একশ্রেণির নেতাকর্মীর আর্থিক বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও উৎপাতের কারণে নির্বাচনে বিএনপি’র ভোট কমে যায়। অবশ্য বর্তমানে এসব দেখা যাচ্ছে না। মানুষ খাদ্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দেখতে চায়। তেঁতুলিয়ার ভজনপুর এলাকার মোহাম্মদ রনি বলেন, আমরা পঞ্চগড়বাসী চিকিৎসা সেবা পেতে চাই। চিকিৎসার অভাবে পথে নয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে মরতে চায়। ঝলইশালশিরি এলাকার শিক্ষক মইন উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভালো ভালো কাজ শুরু করেছেন। তিনি জনকল্যাণমুখী কাজ অব্যাহত রাখবেন বলে প্রত্যাশা করছি। বিএম কলেজ এলাকার সাইকেল মেকার বারেক বলেন, দেশ সুন্দরভাবে চলুক আমরা এটা চাই। আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য সরকার খাদ্যপণের দাম কম রাখবে এ প্রত্যাশা করি। ফকিরের হাট এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী তাহেরুল ইসলাম বলেন, আমাদের জেলায় শিল্পকারখানা খুবই কম। এ জন্য বেকারত্বের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিবারে অভাব লেগেই থাকে। আমি নিজে ফার্নিচার তৈরি করে হাটবাজারে নিয়ে যাই। কিন্তু বিক্রি হয় না। তাহলে আমরা চলবো কীভাবে। অন্য কাজও তো পারি না। গরিনাবাড়ি এলাকার ভ্যানচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ফ্যামেলি কার্ড দেয়ার কথা শুনেছি। কিন্তু কার্ড নিতে টাকা দিতে হয় নাকি তা নিয়ে চিন্তায় আছি। সরকার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়ে তোলাসহ সার সমস্যার নিরসন ও কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে জিনিসপত্রের দাম ঠিক রাখবে বলে আমরা আশা করছি। পুরাতন পঞ্চগড় এলাকার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, বর্তমানে কোনো হুমকি ও চাঁদাবাজি দেখছি না। এরকমই চলুক এ প্রত্যাশা করছি। পঞ্চগড় পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু বলেন, পৌরসভায় সব দলের প্রতিনিধি ছিল। কিন্তু ফ্যাসিস্ট অজুহাতে নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের বাতিল করে পৌরসভা প্রশাসন দিয়ে চালানো হচ্ছে। অথচ নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান- মেম্বাররা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। এটি আমাদের প্রতি চরম বৈষম্য ও ক্ষমতার অপব্যবহার। এ ব্যাপারে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন বলে আশা করছি। মালাদাম এলাকার বিশিষ্ট কৃষক ও পঞ্চগড় পেপার হাউজের এজেন্ট ও মালিক আমিনার রহমান বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কিন্তু ডিলারদের মাধ্যমে যে সার সরবরাহ করা হচ্ছে তা নিম্নমানের। বাজারে সার পাওয়া গেলেও দাম বেশি। কীটনাশকেও ভেজাল পাওয়া যাচ্ছে। তাই এ ব্যাপারে সরকার ব্যবস্থা নিবেন এ প্রত্যাশা করছি। কামাতপাড়া এলাকার টুটুল বলেন, এবার আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভোটাররা বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। আমরা আশা করছি সরকার সবার জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড উন্মুক্ত করে দিবেন। আটোয়ারী উপজেলা পুজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি মনোজ রায় হিরু বলেন, আমরা সনাতনী হিন্দু ধর্মালম্বীরা বিএনপিকে ভোট দিয়েছি। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা ও দাবি আমরা যেনো কোনো ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার না হই। সে সঙ্গে আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ও সম্মানের সহিত জীবনযাপন করতে পারি। পঞ্চগড় বাসটার্মিনাল জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন মো. খলিলুর রহমান বলেন, মসজিদ কমিটি যে টাকা দেয় তা দিয়ে সংসার ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হয় না। গ্রামের মোয়াজ্জিনদের অবস্থা আরও করুণ। সরকার আমাদের বেতনভাতার ব্যবস্থা করলে খুবই উপকৃত হবো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন