কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের প্রবণতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ডেনমার্ক সরকার। এখন থেকে দেশটির উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাড়িতে লেখা যেকোনো লিখিত অ্যাসাইনমেন্ট বা পরীক্ষার পর তা মৌখিকভাবে ব্যাখ্যা বা ডিফেন্ড (লেখার বিষয়বস্তু নিয়ে করা প্রশ্নের উত্তর) করতে হবে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অবিলম্বে কার্যকর হওয়া এই নতুন নিয়মটি ষোলো বছর বা তদূর্ধ্ব উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
এর মধ্যে দেশের দুই বছরের উচ্চ প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা প্রোগ্রামে নথিভুক্ত প্রায় নয় হাজার শিক্ষার্থীও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যাদের প্রতি বছর বড় ধরনের লিখিত অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। জালিয়াতি ঠেকাতে মন্ত্রণালয় স্কুলগুলোকে পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন মনিটর করার টুল ব্যবহার এবং ক্লাস ও পরীক্ষার সময় প্রবেশযোগ্য কনটেন্ট ফিল্টার করার জন্য ফায়ারওয়াল চালুর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, কড়া নজরদারির জন্য শিক্ষার্থীদের আরও বেশি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে স্কুলের ভেতরেই সম্পন্ন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী ম্যাগনাস হিউনিকে এই উদ্যোগের বিষয়ে বলেন, দুঃখজনকভাবে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহার করে প্রতারণা করার একটি বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে, তাই এখনই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
তিনি আরও জানান, এআই যেন শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, একাডেমিক যোগ্যতা এবং স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতাকে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্য তিনি খুব শীঘ্রই স্কুল, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে দীর্ঘমেয়াদী কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবেন। এদিকে স্কুল প্রধান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন সংগঠন সরকারের এই জরুরি উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে আরও টেকসই সমাধানের দাবি জানায়। শিক্ষক প্রতিনিধি আন্ডার ফ্রিক্কে বড় বড় অ্যাসাইনমেন্টে এআই ব্যবহারের ঘোষণা বাধ্যতামূলক করা এবং মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতি এআইয়ের নাগালের বাইরে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন।
অন্যদিকে ছাত্র প্রতিনিধি অস্কার টন্সবার্গ হফম্যান বলেছেন, স্কুলে লিখিত কাজ বাড়লে তা যেন কেবল বাসা থেকে স্কুলে স্থানান্তর না হয়ে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিখন প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধান তৈরিতে যেন শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
