দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে দুইবার শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। তবে এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নস লীগে খেলেনি বাংলাদেশের কোনো ক্লাব। সেই অপেক্ষা ফুরাচ্ছে। প্রথমবারের মতো এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নস লীগে খেলবে বাংলাদেশের কোনো ক্লাব। সেই দায়িত্ব রাজশাহী স্টারস এফসির কাঁধে। প্রথমবার এশিয়ার মঞ্চে পা রেখে ইতিহাস গড়তে চায় ক্লাবটি। আগামী ১৭ই আগস্ট মালয়েশিয়ায় শুরু হচ্ছে এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নস লীগের প্রিলিমিনারি রাউন্ড। যেখানে ‘এ’ গ্রুপে রাজশাহী স্টারসের প্রতিপক্ষ ভারতের ইস্ট বেঙ্গল, স্বাগতিক সাবাহ এফএ এবং গুয়ামের রোভার্স এফসি। উদ্বোধনী দিনে ভারতের ইস্ট বেঙ্গলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে রাজশাহী।
এরপর তারা ২০শে আগস্ট স্বাগতিক সাবাহ এফসি এবং ২৩শে আগস্ট গুয়ামের রোভার্স এফসির মুখোমুখি হবে তারা। এ পর্বে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। কেবল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে মিলবে মূল পর্বের টিকিট। আসরকে সামনে রেখে গত শুক্রবার বাফুফে ভবনে দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন ক্লাব কর্তারা। গতকাল শুরু হয় রাজশাহী স্টারসের আনুষ্ঠানিক অনুশীলন। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে প্রধান কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের অধীনে প্রায় দুই ঘণ্টা অনুশীলন করে রাজশাহী স্টারস। খেলোয়াড়দের শারীরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতিতে জোর দেন তিনি। আগামী ১৪ই আগস্ট পর্যন্ত ঢাকায় অনুশীলন করে ১৫ই আগস্ট মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে রব্বানীর শিষ্যরা। এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নস লীগকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে দল গোছানোর কাজ সম্পন্ন করেছে রাজশাহী স্টারস। ক্লাবটিতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ১৬ ফুটবলার আছেন। মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, রুপ্না চাকমা, শিউলি আজিম, সুরভী আকন্দ প্রীতি, তহুরা খাতুন, আলপি আক্তার, শামসুন্নাহার জুনিয়রসহ পরীক্ষিত পারফর্মাররা রাজশাহীর হয়ে খেলবেন।
তবে মিয়ানমার লীগে ব্যস্ত সময় পার করা ঋতুপর্ণা চাকমাকে পাচ্ছে না তারা। নতুন মুখ হিসেবে ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছেন উন্নতি ও সুলতানার মতো সম্ভাবনাময় ফুটবলার। ফিফার নিষেধাজ্ঞায় থাকা নেপালের একজন নারী ফুটবলারও খেলবেন রাজশাহীর জার্সিতে। সেন্টার ব্যাক বিমলা বিকের সঙ্গে চুক্তি সেরে ফেলেছে ক্লাবটি। নারী লীগের সবশেষ আসরে রাজশাহীর হয়ে খেলেছিলেন তিনি। এ ছাড়া, গীতা রানাকেও দলে নিতে চেয়েছিল রাজশাহী। ফিফার ট্রান্সফার উইন্ডোর ঝামেলা এড়াতে তাকে দলভুক্ত করতে পারেনি তারা। ক্লাব ম্যানেজার মুশফিকুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, ‘নেপালের একজন ফুটবলার আমরা ইতিমধ্যে নিবন্ধিত করেছি। তাদের ফেডারেশন নিষিদ্ধ থাকলেও খেলোয়াড়দের অন্য দেশের ক্লাবের হয়ে খেলতে বাধা নেই। আরও দু’জনকে নেয়ার চেষ্টা ছিল। ট্রান্সফার উইন্ডোর কিছুটা জটিলতা থাকায় আমরা তাদের নেইনি।’ নারী লীগের সবশেষ আসরে নতুন দল হয়ে চমক দেখায় রাজশাহী স্টারস। ঋতুপর্ণা চাকমা, রুপ্না চাকমা, আফঈদা খন্দকারদের নিয়ে গড়া দলটি ১০ ম্যাচের সবক’টিতে জিতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ আর্মিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরে। সেই সাফল্যের পুরস্কার হিসেবেই এবার এএফসির টিকিট পেয়েছে ক্লাবটি।
বাফুফের অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দলের দায়িত্ব থেকে সাময়িক ছুটি নিয়ে রাজশাহীর হাল ধরেছেন গোলাম রব্বানী ছোটন। টুর্নামেন্ট শেষে অনূর্ধ্ব-১৭ দলে ফিরে যাবেন তিনি। ছোটনের অধীনে প্রথমবার সাফের শিরোপা জিতেছিল মেয়েরা। এবার তিনি আরেকটি ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে। টুর্নামেন্টে লক্ষ্য জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে (দলে) শিরোপা জেতা অনেক প্লেয়ার আছে। বাংলাদেশের সেরা প্লেয়াররাই রাজশাহী স্টারসে। টুর্নামেন্টের জন্য আমরা সেরাটা দেবো।’ দলের প্লেয়ার মনিকা চাকমা বলেন, ‘রাজশাহী স্টারকে ধন্যবাদ জানাই। যেহেতু প্রথমবার এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নস লীগে খেলতে যাচ্ছি। নিজেদের সেরা দিয়ে চেষ্টা করবো।’ নতুন যাত্রায় ছায়া ফেলেছে পুরনো এক সমস্যা। এত বড় আসরে অংশ নিতে গিয়েও আলাদা আবাসনের ব্যবস্থা হয়নি রাজশাহীর জন্য। বাফুফের অনুরোধেই খেলোয়াড়রা থাকছেন বাফুফে ভবনে। যেখানে সারাবছর থাকেন জাতীয় দলের সদস্যরা। এর আগে ঘরোয়া ফুটবল লীগে আতাউর রহমান ভূঁইয়া স্পোর্টিং ক্লাব ও নাসরিন স্পোর্টস একাডেমির ফুটবলাররাও একই সমস্যায় পড়েছিলেন। ঘুরেফিরে সেই পুরনো চিত্রই থেকে গেল আন্তর্জাতিক আসরে যাওয়ার আগে।
