নাউটক্লাব কাণ্ডে শাস্তির মুখে ব্রাইডন কার্স

নাউটক্লাব কাণ্ডে শাস্তির মুখে ব্রাইডন কার্স

ফন্ট সাইজ:

পেশাদার আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে ব্রাইডন কার্সকে অভিযুক্ত করেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) আওতাধীন স্বাধীন সংস্থা ক্রিকেট রেগুলেটর। গত আগস্টে ডার্বিতে ডারহাম সতীর্থদের সঙ্গে নাইট আউটে গিয়ে মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খলা ও পুলিশি আটকের ঘটনার পর অভিযুক্ত হলেন এ ইংলিশ পেসার। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে ক্রিকেট রেগুলেটরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘যেহেতু প্রক্রিয়া চলমান, তাই এ বিষয়ে এখন আর কোনো মন্তব্য করা হবে না।’

আরেক বৃটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৩শে আগস্ট ভোরের দিকে ডার্বিতে নাইট আউটের সময় মদ্যপ ও শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং মারধরের অভিযোগে কার্সকে আটক করে ডার্বিশায়ার পুলিশ। পরবর্তীতে পুলিশ মারধরের অভিযোগের তদন্ত করলেও দুই সপ্তাহ আগে কোনো আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন না করেই মামলাটি বন্ধ করে দেয়। পুলিশের তদন্ত থেকে মুক্তি মিললেও ইসিবির হাত থেকে রেহাই পাননি ৩১ বছর বয়সী এই ফাস্ট বোলার। স্বাধীন ক্রিকেট ডিসিপ্লিনারি কমিটির (সিডিসি) সামনে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাকে শৃঙ্খলাভঙ্গ সংক্রান্ত শুনানির মুখোমুখি হতে হবে।

এক বিবৃতিতে ক্রিকেট রেগুলেটর জানায়, ইসিবি প্রফেশনাল কন্ডাক্ট রেগুলেশনের ৩.২ ধারা ভঙ্গের দায়ে কার্সকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, ক্রিকেট খেলা, ইসিবি কিংবা কোনো ক্রিকেটারের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে বা ক্রীড়াঙ্গনকে অসম্মানিত করে-এমন কোনো অনুপযুক্ত আচরণ কোনো অংশগ্রহণকারী করতে পারবেন না।

এদিকে, এই ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের বিপক্ষে আগস্টের টেস্ট স্কোয়াড থেকে কার্সকে বাদ দেয়া হয়। পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কা সিরিজ এবং ত্রিদেশীয় দল থেকেও তিনি উপেক্ষিত হন। তবে বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য নির্বাচনের যোগ্য রয়েছেন।
ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ সামনে রেখে প্রধান কোচ স্টিভেন ফ্লেমিং যখন দল গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই এই আইনি প্রক্রিয়া চলমান। ফলে নতুন কোচের জন্য স্কোয়াড নির্বাচন করা বেশ কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

ইসিবির সঙ্গে কার্সের চুক্তির মেয়াদ এখনও এক বছর বাকি রয়েছে। তবে নিয়োগকর্তা হিসেবে ইসিবি সরাসরি তার বিরুদ্ধে আলাদা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। সিডিসির নিয়মানুযায়ী, সম্ভাব্য শাস্তির তালিকায় রয়েছে কঠোর সতর্কবার্তা, ম্যাচ বা সময়ভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা এবং বড় অংকের আর্থিক জরিমানা।

সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা নতুন কিছু নয়। এর আগে হ্যারি ব্রুক, বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসদের মতো তারকারাও নানা বিতর্কে জড়িয়ে শাস্তি বা সমালোচনার মুখোমুখি হন।