রায়পুরে মাসহ তিন মেয়ে হত্যা দেড় মাসেও উদ্‌ঘাটন হয়নি রহস্য

রায়পুরে মাসহ তিন মেয়ে হত্যা দেড় মাসেও উদ্‌ঘাটন হয়নি রহস্য

ফন্ট সাইজ:

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার দীর্ঘ দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়নি। ঘটনার দিন সন্দেহভাজন হিসেবে অন্তর মজুমদার নামে এক যুবককে ঘটনাস্থলে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। গণপিটুনিতে পরে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু চারজনকে হত্যার প্রকৃত কারণ কী, অন্তর একাই জড়িত ছিলেন, বা হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ভূমিকা ছিল কি না। এসব প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর এখনো অধরা। গত ২৫শে জুন সকালে রায়পুর পৌর শহরের ডাকাতিয়া নদীর তীরঘেঁষা একটি ভাড়া বাসায় শাহিনুর বেগম (৩৮) ও তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার, ইকরা আক্তার ও শিফা আক্তারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে আসে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা অন্তর মজুমদার নামে এক যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে গণপিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই কি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ একটি দরজা বন্ধ হয়ে গেছে? এ প্রশ্নও এখন সামনে এসেছে। অন্তরই কি সব, নাকি পেছনে আরও কেউ আছে? অন্তর জীবিত থাকলে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যার উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা, সম্ভাব্য সহযোগী কিংবা কারও নির্দেশে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল কি না? এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারতো। তার মৃত্যুতে সেই সুযোগ আর নেই। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন অজ্ঞাত আসামিদের মধ্যে কাউকে কি শনাক্ত করা হয়েছে? ঘটনার সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগী বা পরিকল্পনাকারীর কোনো সন্ধান কি মিলেছে। নিহতদের সঙ্গে কারা যোগাযোগ রাখতেন, ঘটনার আগে-পরে কারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, মুঠোফোনের কললিস্ট ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণে কোনো সূত্র পাওয়া গেছে কি না। এসব বিষয়ও এখন জনমনে কৌতূহলের জন্ম দিচ্ছে। কেন টার্গেট করা হলো চারজনকে? একই পরিবারের মা ও তিন মেয়েকে হত্যার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল। এটাই এখন তদন্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

রায়পুরবাসীর প্রশ্ন চারজন মানুষকে হত্যা করা হলো, একজন সন্দেহভাজন গণপিটুনিতে মারা গেলেন। কিন্তু প্রকৃত হত্যাকারী বা পরিকল্পনাকারী কারা সেই প্রশ্নের উত্তর কোথায়। হত্যাকাণ্ডের দেড় মাস পরও অপেক্ষায় স্বজন ও রায়পুরবাসী। নিহতদের স্বজনদের জিজ্ঞাসা, কেন তাদের প্রিয়জনদের হত্যা করা হলো, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং তাদের হত্যার ন্যায়বিচার কবে মিলবে। নির্মম হত্যার নেপথ্যের সত্য উদ্‌ঘাটন এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনাই এখন পুলিশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন