সভারের আশুলিয়ায় ব্যবসায়িক মন্দার কারণে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং আর্থিক সহযোগিতা না পাওয়ায় ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ছুটির মধ্যেই একটি কারখানার ৫৬৫ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকালে আশুলিয়ার পুকুরপাড় এলাকায় অবস্থিত রপ্তানিমুখী অ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট লিমিটেডের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগ থেকে এক নোটিশে কারখানাটির বিভিন্ন শাখার ৫৬৫ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়। যা আজ থেকেই কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
নোটিশে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের তালিকাও সংযুক্ত করে উল্লেখ করা হয়েছে, কারখানাটিতে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানাবিধ কারণে বর্তমানে ফ্যাক্টরিতে মারাত্মক ব্যবসায়িক মন্দা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং আর্থিক সহযোগিতা না পাওয়া এবং পর্যাপ্ত কাজের স্বল্পতা থাকায় কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এমতাবস্থায় কারখানার অস্তিত্ব রক্ষা ও ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত শ্রমিক হ্রাস করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ধারা ২০ মোতাবেক সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কারখানাটির ৫৬৫ জন শ্রমিককে আজ থেকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও নোটিশে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের চাকরির মেয়াদকাল অনুযায়ী বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ধারা ২০-এর উপধারা (২) মোতাবেক যাবতীয় আইনগত পাওনা ও সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, আইনে উল্লেখিত সময়ে মধ্যে পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শ্রম আইনের ধারা ২১ অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে কারখানার কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেলে বা পুনরায় নতুন শ্রমিক নিয়োগের প্রয়োজন হলে, ছাঁটাইকৃত এই শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনরায় কাজে যোগদানের সুযোগ দেয়া হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়।
কারখানাটির সুইং শাখার অপারেটর মো. জিয়ারুল হক বলেন, তিনদিনের ছুটিতে দিনাজপুরের বাড়িতে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে মোবাইল ফোনে ছাঁটাইয়ের নোটিশ পান। কেন তাকে ছাঁটাই করা হলো, তা তিনি জানেন না। চাকরি হারিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাঈম আহমেদ বলেন, আমাদের কারখানায় কোনো অর্ডার নাই ও কাজ নাই।
এ কারণে শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে, কাজ আসলে আবার শ্রমিক বাড়ানো হবে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, ব্যবসায়িক মন্দা মালিকপক্ষের একটি বাহানা মাত্র। এভাবে ছুটির মধ্যে হঠাৎ করে একযোগে এত শ্রমিক ছাঁটাই অমানবিক। আমরা অবিলম্বে এই নোটিশ প্রত্যাহার করে এ্যালায়েন্স নীট কম্পোজিট লি. এর বে-আইনিভাবে ৫৬৫ জন ছাটাইকৃত শ্রমিকদের অবিলম্বে কাজে পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানাই। শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-পরিচালক মমিনুল ইসলাম বলেন, মূলত পর্যাপ্ত কার্যাদেশ না থাকা ও গ্যাস সংকটের কারণে সৃষ্ট ব্যবসায়িক মন্দার কারণে কারখানাটি তাদের কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করেছে বলে জানতে পেরেছি।
তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি তিনি।
