চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি আগস্টের প্রথম সাত দিনেই জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০২ জনে। একই সময়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৫০ জন রোগী। গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি ৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে ১৭ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৭ জন, চট্টগ্রাম সিএমএইচে ৬ জন, বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ৩০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ২৪ জনের মধ্যে ১৩ জন চমেক হাসপাতালে, ২ জন সিএমএইচে, ৩ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ৬ জন বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জানা যায়, চলতি বছরের শুরু থেকেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। জানুয়ারিতে ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন, মার্চে ২০ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মে মাসে ৩৭ জন এবং জুনে ১২২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। তবে জুলাইয়ে আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩৬ জনে। ওই মাসে ডেঙ্গুতে দুইজনের মৃত্যু হয়। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ৬ই আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ১ হাজার ৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে একজন এবং জুলাইয়ে দু’জনের মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম জেলায় উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে সীতাকুণ্ডে। এ উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০৮ জন। এদিকে গত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি বছরও ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রামে মোট ৪ হাজার ৮৬৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং মারা যান ২৭ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৩২৩ জন, মৃত্যু হয় ৪৫ জনের। ২০২৩ সালে ১৪ হাজার ৮৭ জন আক্রান্ত হয়ে মারা যান ১০৭ জন। আর ২০২২ সালে ৫ হাজার ৪৪৫ জন আক্রান্তের মধ্যে মৃত্যু হয় ৪১ জনের। জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ৪০৮ জন নগরের বাসিন্দা, ৪৩০ জন জেলার বিভিন্ন উপজেলার এবং ১৭৪ জন অন্য জেলার বাসিন্দা। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৫৭৭ জন, নারী ২৬২ জন এবং শিশু ১৭৩ জন।
